কুরবানির বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতা

অনলাইন ডেস্ক

ঈদুল আজহা সামনে রেখে কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ রক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাজীপুর জেলা শাখার সদস্যরা।

শনিবার (২৩ মে) ঐতিহ্যবাহী রথখোলা গরু-ছাগলের হাটে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদুল আজহার সময় কুরবানির পশু জবাইকে কেন্দ্র করে নগর ও গ্রামাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়। যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে এসব বর্জ্য পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং নানা সংক্রামক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে অবহেলা ও অসচেতনতার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা সামনে রেখেই বসুন্ধরা শুভসংঘের এ আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, ‘‘কুরবানি একটি ধর্মীয় ইবাদত হলেও এর সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত। পশুর বর্জ্য যদি নির্ধারিত স্থানে ফেলা না হয় এবং দ্রুত অপসারণ না করা হয়, তাহলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগব্যাধির ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “চামড়া আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ। কুরবানির পর সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ করা গেলে তা দেশের শিল্পখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। কিন্তু অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”

সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ বলেন, “পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কুরবানির পরপরই বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তাহলেই আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও মানুষকে সচেতন হতে হবে। যথাসময়ে লবণ ব্যবহার ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকে এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়া সম্ভব হয়।”

সংগঠনের সদস্য জহিরুল ইসলাম বলেন, “কুরবানির পরপরই স্থান পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে রক্ত ও বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। তাই দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চামড়ায় সময়মতো লবণ প্রয়োগ করলে তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।”

কর্মসূচির অংশ হিসেবে রথখোলা পশুর হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। লিফলেটে কুরবানির বর্জ্য অপসারণের সঠিক পদ্ধতি, জীবাণুনাশক ব্যবহারের গুরুত্ব, নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং চামড়া সংরক্ষণের নিয়মাবলি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এ ধরনের উদ্যোগ খুবই সময়োপযোগী। কারণ কুরবানির সময় সচেতনতার অভাবে অনেক জায়গায় পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে সঠিকভাবে চামড়া সংরক্ষণ না জানার কারণে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তানভীর আহমেদ, তানজিনা আক্তার জেরিন, জহিরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ, ইসরাফিল সিয়াম, রবিউল আউয়াল বিপ্লব, বিথী, বনলতাসহ বসুন্ধরা শুভসংঘ গাজীপুর জেলা শাখার অন্যান্য সদস্যরা।
মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিচালিত এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা প্রশংসা করেন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গঠনে এমন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights