স্বাগতিক মেক্সিকো ইতিহাস বদলাবে?
রাশেদুর রহমান
বিশ্বকাপে দর্শনীয় গোল করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন কত ফুটবলার। তবে এ তালিকায় সবার ওপরে মেক্সিকোর ম্যানুয়েল নেগ্রেতে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে বাইসাইকেল কিকে দারুণ এক গোল করেন তিনি। সেই গোলে ভূমিকা ছিল হাভিয়ের আগুইরেরও। সামনের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এই হাভিয়ের আগুইরে। নিজ দেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ নিয়ে মেক্সিকানদের আছে উচ্চাশা। অতীতে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলাই ছিল মেক্সিকোর সেরা সাফল্য। এবার কী আরেকটু দূরে যেতে পারবে তারা?
বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগেই একটা ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে মেক্সিকো। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করছে তারা। ১৯৭০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপের আয়োজক হয় মেক্সিকো। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। ফাইনালে সেই ইতালিকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজন করে মেক্সিকো। এবারেও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। শেষ ষোলোতে হারিয়ে দেয় বুলগেরিয়াকে। এই ম্যাচেই বিশ্বকাপের সেরা গোলটা উপহার দেন ম্যানুয়েল নেগ্রেতে। কোয়ার্টার ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় মেক্সিকানরা। ফুটবল ইতিহাসে তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজনের কীর্তি আর কোনো দেশের নেই। দুবার করে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে ব্রাজিল (১৯৫০ ও ২০১৪), জার্মানি (১৯৭৪ ও ২০০৬), ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৯০) এবং ফ্রান্স (১৯৩৮ ও ১৯৯৮)। এবারের বিশ্বকাপ মেক্সিকোর জন্য শুধু ফুটবল নয়। এটি ইতিহাসের সামনে আরেকটি দাঁড়িয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। মেক্সিকোর বিশ্বকাপ ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই তাদের যাত্রা।
২০২৬ হবে তাদের ১৮তম বিশ্বকাপ। ১৯৯৪ সালের পর টানা নয়বার বিশ্বকাপে খেলছে তারা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ আজও মেক্সিকানদের হৃদয়ে বেঁচে আছে। আজটেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারি। রঙিন পতাকা। আর ম্যানুয়েল নেগ্রেতের সেই অবিশ্বাস্য বাইসাইকেল কিক গোল। যা এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়। এবারের মেক্সিকোর বড় শক্তি তাদের ঘরের মাঠ। বিশেষ করে ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়াম। এর গ্যালারি প্রতিপক্ষের জন্য সবসময় কঠিন জায়গা। মেক্সিকান সমর্থকরা ম্যাচকে উৎসবে পরিণত করতে জানে। কোচ হাভিয়ের আগুইরে এই আবেগকে কাজে লাগাতে চান। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এখন তৃতীয়বারের মতো জাতীয় দলের কোচ। তার লক্ষ্য স্পষ্ট, মেক্সিকোর ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেওয়া। দলের শক্তি আছে। মিডফিল্ডে লড়াই করার মানসিকতা আছে। অভিজ্ঞতাও আছে।
তবে দুর্বলতাও স্পষ্ট। শেষ কয়েক বছরে ধারাবাহিক গোলদাতার অভাব ভুগিয়েছে দলকে। ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। ১৯৭৮ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলোতে উঠতে পারেনি মেক্সিকো। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ তাদের জন্য পুনর্জন্মেরও মঞ্চ। হয়তো মেক্সিকো এবারের বিশ্বকাপে ফেবারিটের তালিকায় নেই। কিন্তু ইতিহাস বলছে, স্বাগতিক মেক্সিকোকে কখনো ছোট করে দেখা যায় না। কারণ আজটেকার গ্যালারিতে ফুটবল শুধু খেলা থাকে না। এখানে থাকে মেক্সিকোর হৃদস্পন্দন।
