ট্রাম্প আলোচনা চান না, অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে: ইরানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলমান উপসাগরীয় সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব শর্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো বড় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প শর্ত দেন যে, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু অস্ত্র বা বোমা তৈরির পথ চিরতরে পরিহার করতে হবে, কোনো ধরনের শুল্ক বা বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে ইরানের স্থাপন করা সমস্ত নৌ-মাইন অপসারণ করতে হবে। এর বিনিময়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনাধীন একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই শর্ত ও প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কূটনীতি ভঙ্গের অভিযোগ এনে বলেন, যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। আলোচনার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে দুবার ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রেজাই আরও বলেন, নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং আলোচনার টেবিলে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি করার মাধ্যমে ট্রাম্প আবারও প্রমাণ করেছেন যে তিনি প্রকৃত আলোচনা চান না, বরং তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এখনো সচল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্য সাইদ আজোরলু। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং এখনো কিছু ছোটখাটো বিষয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে।

ইরানের প্রধান পরমাণু পরিকল্পনাকারী ও মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘেরী গালিবফের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পুনর্প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে আজোরলু আরও বলেন, যদি চুক্তির চূড়ান্ত খসড়াটি অনুমোদিত হয়, তবে বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আমরা পরবর্তী ৬০ দিনের সংলাপে প্রবেশ করব।

সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights