ঈদের ছুটিতে পাহাড়-সমুদ্রের টানে দর্শনার্থীদের ঢল

ইমরান এমি, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রাণ ফিরেছে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। নগর ও জেলার প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্র এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত। ঈদের পরদিন থেকেই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যা এখনো সমভাবে বজায় রয়েছে।

দর্শনার্থীদের এই ব্যাপক আগমনকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ স্থবিরতার পর দর্শনার্থীদের এই উপচে পড়া ভিড়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলো যেন নতুন জীবন পেয়েছে। মূলত বছরের দুই ঈদের জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা। এবার ঈদের পর অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে আশানুরূপ দর্শনার্থী এসেছেন।

জানা গেছে, ঈদের পরদিন থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, আনোয়ারা পারকি সৈকত, কনকর্ড ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ড, ডিসি পার্ক, কর্ণফুলী টানেল, আগ্রাবাদ কর্ণফুলী শিশু পার্ক, সীতাকুন্ড ইকো পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, মহামায়া লেক, খৈয়াছড়া ও নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এবং পতেঙ্গা নেভালসহ অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এই সৈকতের পাশেই রয়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের একমাত্র টানেল, যা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ফয়’স লেকে মানুষের চিরন্তন কৌতুহল রয়েছে। পাহাড় ও লেকবেষ্টিত এই পার্কে ঈদের পরদিন থেকে ব্যাপক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পার্কের সার্কাস সুইং, বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, কফিকাপ, রেড ড্রাইল্লাইড, ইয়োলো ড্রাই-স্লাইড ও বাগস বানির মতো রাইডগুলো শিশু-কিশোরদের প্রধান আকর্ষণ। লেকের দুই পাশে রয়েছে সারি সারি পাহাড় আর হরেক রকম গাছপালা। এখানকার বিভিন্ন পাহাড়ের নামকরণ করা হয়েছে অরুণিমা, জলটুঙ্গি, গোধুলি, অস্তাচল, আকাশমণি, বনশ্রী, হিমঝুরি, আসমানি, গগণদ্বীপ, উদয়ন প্রভৃতি নামে। পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে ফটো কর্নার, যেখানে নানা ভঙ্গিতে বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য শোভা পাচ্ছে। এছাড়া লেকের গা-ঘেঁষেই সামুদ্রিক প্রাণীদের ভাস্কর্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পিকনিক স্পট ‘অ্যাকুয়াটিক জোন’।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ঈদের দিন দর্শনার্থী কিছুটা কম হলেও দ্বিতীয় দিন থেকে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন সকাল থেকেই চিড়িয়াখানা খোলা ছিল। ঈদের দিন মাত্র দুই হাজার দর্শনার্থী এলেও দ্বিতীয় দিনে (শুক্রবার) এসেছে ১০ হাজার ৭০০ জন। আর শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১২ হাজার দর্শনার্থী টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ৬৮ প্রজাতির ৫২০টি পশু-পাখি আছে। চিড়িয়াখানা সম্প্রসারণের কাজ চলছে, যা শেষ হলে পশু-পাখির সংখ্যা আরও বাড়বে। ঈদ উপলক্ষে ইতিমধ্যে মরিচা পড়া খাঁচাগুলো মেরামত ও নতুন করে রঙ করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি চিড়িয়াখানার পাশের পাহাড়গুলো ঘিরে গড়ে তোলা ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) দর্শনার্থীদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে পশু-পাখি দেখার পাশাপাশি শিশুদের জন্য দোলনাসহ বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ঈদের পরদিন থেকে এখানে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃতীয় দিনের সকাল থেকেই সমাগম আরও বেড়েছে। পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি আগে নষ্ট থাকা রাইডগুলো সংস্কার করে পার্কটিকে আরও আধুনিক করা হয়েছে। লেকে ভ্রমণের জন্য যুক্ত করা হয়েছে নতুন ইঞ্জিন বোট। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সুবিধার্থে কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা রিসোর্ট ও বাংলোগুলোও আকর্ষণীয়ভাবে সংস্কার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights