‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেই অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

গত কয়েক বছরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে খুলনা। মাদক কারবারের দ্বন্দ্বে ধারাবাহিক হামলা, গুলিবিনিময় ও খুনের ঘটনা ঘটছে। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতায় টাকার বিনিময়ে টার্গেট কিলিং বাড়ছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলনায় ৩৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকা করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে ১৫ শীর্ষ চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এর আগে মহানগরীতে ২৮ চাঁদাবাজ, ৪৭ সন্ত্রাসী ও ৪০০ মাদক কারবারির তালিকা করে পুলিশ। কিন্তু তালিকা হলেও উল্লেখযোগ্য শীর্ষ অপরাধী কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

খুলনা র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অপরাধীদের তালিকা করা হয়। প্রাথমিকভাবে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলেই গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে।

জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন পাড়ামহল্লায় সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। টাকার বিনিময়ে টার্গেট কিলিং আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ৪ মার্চ মহানগরীর ডাকবাংলা মোড়ে রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডে অন্তত তিনটি গ্রুপের কিলাররা অংশ নেয়। একইভাবে ১৬ মার্চ দৌলতপুরে যুবদল নেতা রাশিদুল আনাম রাশুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদার দাবিতে শেখপাড়া লোহাপট্টিতে ব্যবসায়ীর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরদিন দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৯ লাখ টাকা লুট করা হয়। পুলিশকে ঘটনা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা নবীনগর এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে ৩ রাউন্ড গুলি করে।

এদিকে তালিকা তৈরি হলেও চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। তিনি সম্প্রতি বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা কোথায় অবস্থান করেন তা প্রশাসনের জানা আছে। প্রশাসন চাইলেই তাদের গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা না করে উল্টো তালিকার নামে অপরাধীদের সতর্ক করা হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights