তোপের মুখে নিজ কার্যালয় ছাড়লেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের পরিচালক

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপি–সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স ও ছাত্রদলের নেতাদের তোপের মুখে নিজ কার্যালয় ত্যাগ করলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মামুনুর রশীদ।

বুধবার (৩ জুন) নিজ কার্যালয়ে দায়িত্বপালনকালে তোপের মুখে পড়েন তিনি। পতিত ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে ডা. মামুনুর রশীদকে কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ড্যাব, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ডা. মামুনুর রশীদ পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) এর সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা ছিল। তথ্য গোপন করে তিনি এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন- এমন অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবি তোলা হয় এবং তার নেতৃত্বে হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও নার্সরা কাজ করবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যও বলেন বিক্ষোভকারীরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডা. মামুনুর রশীদ গণমাধ্যমের কাছে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি স্বাচিপের সঙ্গে অতীতের সম্পৃক্ততার কথা আংশিক স্বীকার করে জানান যে, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে তাকে যুক্ত হতে হয়েছিল। যদিও তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবন বিএনপিপন্থি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি মন্ত্রণালয়ে যাবেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে গ্রহণ করবেন। এসময় পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ডা. মামুনুর রশীদ তার কার্যালয় ত্যাগ করেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি মামুনুর রশিদ ‘ফ্যাসিবাদ’ তথা আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন এবং তিনি তথ্য গোপন করে এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার নিয়োগ বাতিল করে পরিচালকের পদে এমন কাউকে নিয়োগ দিতে হবে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও বঞ্চিত ছিলেন এবং এই পদের জন্য যোগ্য।

এদিকে ডা. মামুনুর রশীদ তার কার্যালয় ত্যাগ করার পর বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের সামনের নামফলক (নেমপ্লেট) খুলে ফেলেছেন এবং চূড়ান্ত কোনো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয়টি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। পুরো ঘটনাটি পুলিশ ও আনসার বাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়ায় কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ঘটেনি।

এর আগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর গত ২০ মে যোগদান করতে এসে কলেজ শাখার সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে যোগদান না করেই দ্রুত চলে যান তিনি। এর একদিন পর ২১ মে তিনি যোগদান করেন। যোগদানের অল্প কয়েকদিনের মাথায় আজ দুপুর ১২টার দিকে তোপের মুখে তাকে কার্যালয় ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights