গ্রীষ্মে ফুটল বর্ষার রানি কদম
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
কদম ফুল বর্ষা ঋতুর জন্য বিখ্যাত। বলা হয় বর্ষার রানি। ফুটে আষাঢ়ে। অথচ এবার ফুটল জ্যৈষ্ঠের শুরুতে। বগুড়ায় বর্ষার আগে গ্রীষ্মের প্রখর রোদে ফুটতে দেখা গেছে স্নিগ্ধ কদম ফুল।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, ‘প্রাচীনকাল থেকেই কদম ফুলের প্রতি মানুষের আবেগ রয়েছে। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাসে কদম এসেছে। কদম সাধারণত বর্ষায় ফোটে। তবে পরিবেশদূষণের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তনে কদম ফুলকে গ্রীষ্মেও ফুটতে দেখা যায়।’
কদম ফুলকে বর্ষাদূত বলা হয়। কদম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানথোসেফালাস ইন্ডিকাস। এটি বহু বর্ষজীবী গাছ। কদম ব্যতিক্রম বলে এ ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি। প্রকৃতির শোভাবর্ধনই নয়, এর রয়েছে ঔষধি গুণও। ঋতুবৈচিত্র্যের নিয়ম ভেঙে বগুড়া সদর, শেরপুর, ধুনট, শাজাহানপুর, কাহালু, নন্দীগ্রাম, গাবতলী, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলাসহ অন্যান্য উপজেলায় গ্রীষ্মেই ফুটেছে কদম ফুল। সড়কের পাশে, বসতবাড়ি ও জলাশয়ের পাড়ে চোখজুড়ানো এই ফুল সবাইকে মুগ্ধ করছে। গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে সাদা-হলুদ রঙের এ ফুলের অপরূপ শোভায় প্রকৃতি সেজে উঠেছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ছোটবড় সবাই। অসময়ে কদম ফোটায় অনেকে অবাকও হচ্ছেন। শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ীসহ বেশ কিছু এলাকায় দেখা যায় শিশুরা কদম ফুল নিয়ে খেলছে। বৃষ্টিভেজা আবহে ফুলগুলো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই গাছের নিচে ভিড় করছেন এবং স্মৃতিবন্দি করতে ছবিও তুলছেন। শেরপুর উপজেলার বাসিন্দা ফারুক হোসেন জানান, ছোটবেলায় বর্ষাকালে কদম ফুল ফুটতে দেখতাম। তবে কয়েক বছর ধরে অসময়ে এটি ফুটতে দেখছি। মতিয়ার রহমান বাবলু জানান, কদম ফুটতে দেখলেই মনেপ্রাণে বর্ষাকাল ভেসে ওঠে। তবে প্রকৃতির এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। এখন গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়েও ফুটতে দেখা যায়। তিনি বলেন, দেশীয় গাছপালা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।
