পাহাড়ে বিদেশি জাতের আঙুর
মো. জহুরুল আলম, খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ের চূড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিদেশি জাতের আঙুর। মেরুং ইউনিয়নের ভূঁইয়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী বিদেশি জাতের আঙুর বাগান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৩ সালে ১ হাজার ৪০০ টাকায় অনলাইনে ইউক্রেনের ‘বাইকুনুর’ জাতের মাত্র দুটি চারা দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। বর্তমানে প্রায় ১৫ শতক জমিতে গড়ে উঠেছে সালাউদ্দিনের স্বপ্নের বাগান। সালাউদ্দিনের হাত ধরেই খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের মিষ্টি আঙুর চাষ শুরু। তার বাগান দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। অনেকেই চারা কিনে নিয়ে যান।
বাগানি সালাউদ্দিন জানান, তার বাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৬০ ধরনের আঙুরের জাত রয়েছে। অনলাইনে রাশিয়া, ইউক্রেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের চারা সংগ্রহ করেছেন তিনি। বাগান তৈরিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান সালাউদ্দিন। তার বাগানে রয়েছে বাইকুনুর, ডি পিঙ্ক, বাইকিং, গ্লুরি, ডিক্সন, দাসোনিয়া, মেডরো ব্ল্যাক, চীনের চ্যাং ফিঙ্গার ও মালয়েশিয়ার গ্রিন লং,সিসিলি, রেড গ্লোব, আইসবার্গ, আর্লি রেড, ব্ল্যাক ম্যাজিক, এলব্রোস ও রেড রোজসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জাতের আঙুর। চলতি বছর তার বাগানে ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি আঙুর উৎপাদন হয়েছে। শুধু ফল উৎপাদন নয়, গ্রাফটিং ও রুট পদ্ধতিতে উৎপাদিত আঙুরের চারা অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন সালাউদ্দিন। প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ হাজার চারা বিক্রি করেন তিনি, যার প্রতিটির দাম ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত।
সালাউদ্দিন বলেন, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে জৈব সার ব্যবহার করেই আঙুর চাষ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আঙুর চাষকে আরও বিস্তৃত করে দেশের সম্ভাবনাময় কৃষি খাতে পরিণত করার লক্ষ্য তার। তবে পাহাড়ের চূড়ায় বাগান হওয়ায় মাঝে মধ্যে পানির সংকটে পড়তে হয় বলে জানান সালাউদ্দিন। সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলে আঙুর বাগানকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে সম্প্রসারিত করার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, দীঘিনালায় সাহসিকতার সঙ্গে আঙুর বাগান গড়ে তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সালাউদ্দিন। কৃষি অফিস থেকে তার বাগান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ের মাটিতে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে অনেক প্রান্তিক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
