চবিতে প্রথম মহাসাগরীয় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধন

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম মহাসাগরীয় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র (ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন) উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের তথ্য সরাসরি উপগ্রহ থেকে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতা অর্জন করল বাংলাদেশ। গতকাল সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ভূ-কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শেওপেং এবং চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির উপপরিচালক অধ্যাপক ড. ফু বিন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা প্রদানে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য আহরণ, নৌপরিবহন এবং উপকূলীয় উন্নয়নে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। চীনের অর্থায়নে দেশে প্রথমবারের মতো স্থাপিত এই কেন্দ্রের মাধ্যমে শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকেরাও উপকৃত হবেন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ৪২০ টেরাবাইট তথ্য সংরক্ষণ সক্ষমতাসম্পন্ন এই ভূ-কেন্দ্র বিশ্বের ১১টি উপগ্রহের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস, নদীভাঙন, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন উজাড় এবং পরিবেশ-সংক্রান্ত বিভিন্ন দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানান, বর্তমানে এসব তথ্য সংগ্রহে যেখানে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে তথ্য পাওয়া যাবে। ফলে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। চবির সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির (এসআইও) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন হচ্ছে এই প্রকল্পটি। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি প্রায় ৫০ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights