দুই বছরের প্রকল্পে ১৩ বছর ভোগান্তি
সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা
খুলনা শহরে দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথ শিপইয়ার্ড সড়ক। ২০১৩ সালে কেডিএর উদ্যোগে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ, ডিভাইডার ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়। তবে জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও কয়েক দফায় ব্যয় বৃদ্ধি করে ২০২০ সালে ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকায় প্রকল্পটি ফের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বে সর্বশেষ ৯ জুন একনেক সভায় পুনরায় সময় বৃদ্ধির তৃতীয় দফায় সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি কমিটি। উপরন্তু দীর্ঘ বিলম্বের কারণ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা যায়, রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে রূপসা সেতু পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এবড়োখেবড়ো সড়কটিতে চলাচলে এক যুগের বেশি সময় ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ। বর্ষায় কাদাপানিতে নাস্তানাবুদ আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালির অত্যাচার। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান লিমিটেড এবং মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে যৌথভাবে কার্যাদেশ দেয় কেডিএ। কিন্তু একাধিকবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি করে ৬৫-৭০ শতাংশ কাজ করে ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর মাহাবুব ব্রাদার্স লাপাত্তা হয়। পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বাকি কাজ বাস্তবায়নে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য একনেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এদিকে কবে নাগাদ সড়কটির কাজ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ভুক্তভোগী নগরবাসীর প্রশ্ন, শিপইয়ার্ড সড়কের কী অপরাধ? কবে শেষ হবে এ সড়কের কাজ? স্থানীয় জাসাস নেতা কাজী জলিল সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ‘তাহলে সমাধান কী? পিতৃ-মাতৃহীন শিপইয়ার্ড সড়কের কী হবে এখন?’
স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, শিপইয়ার্ড রাস্তা এখন গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। ব্যবসাবাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে। যাতায়াতকারী যানবাহনের চালক, পথচারী ব্যবসায়ীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নাগরিক সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, যাদের উদাসীনতা-দুর্নীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময় মাহাবুব ব্রাদার্সকে ক্ষমতার জোরে প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়। অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন কেডিএ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। প্রকল্প পরিচালক কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান হোসেন বলেন, একনেকের সভার লিখিত কোনো রেজল্যুশন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
