দৃষ্টিনন্দন নীল লেজ সুঁইচোরা
দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল
নীল লেজ সুঁইচোরা আমাদের আবাসিক পাখি। নীল লেজ। লেজের মাঝের পালক সুঁইয়ের মতো সরু ও লম্বা। হয়তো এজন্যই এ পাখির নাম হয়েছে নীল লেজ সুঁইচোরা। ছোট, হালকাপাতলা গড়নের হলেও দেখতে খুব সুন্দর। নানান রঙে রঙিন। এরা সুঁইচোরা পরিবারভুক্ত পাখি। আমাদের দেশে যে চার প্রজাতির সুঁইচোরা রয়েছে তাদেরই একটি প্রজাতি নীল লেজ সুঁইচোরা। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি। গত বছর রাজশাহীর পদ্মার পার থেকে এ পাখির ছবি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার মশিউর রহমান। এরা লম্বায় ২৩-২৬ সেন্টিমিটার। ওজন ৩৮-৫০ গ্রাম। শরীরের পালক নীল-সবুজ। চোখে কাজল টানা। গলা খয়েরি। বুকের ওপরটা বাদামি। থুতনি হলুদ। সরু ও লম্বা কালো ঠোঁটটি নিচের দিকে বাঁকানো। পা ও পায়ের পাতা কালচে বাদামি। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহের রং অনুজ্জ্বল ও ফ্যাকাশে থাকে। ইীল লেজ সুঁইচোরা পাখি সুন্দরবনসহ দেশের নদী-খাল-জলাশয়ের পারের খোলা বালুময় এলাকায় দেখা যায়। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের টিলা ও পাহাড়ি এলাকায়ও এরা বাস করে। ছোট দলে বিচরণ করে। পানির সামান্য ওপর দিয়ে ওড়ে। বালুময় নদীতট বা গাছের শাখা থেকে উড়ে গিয়ে শিকার ধরে। গঙ্গাফড়িং, বোলতা, মৌমাছি, মথ প্রভৃতি পোকামাকড় খেয়ে জীবন ধারণ করে।
মার্চ-জুন এদের প্রজননকাল। এ সময় পাহাড়ের গায়ে বা নদী ও খালপারে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বাসা বানায়। ৫-৬টি ডিম পাড়ে। ডিমের রং সাদা। ২১-২৬ দিনে ডিম ফোটে। ২০-২৭ দিনে বাচ্চারা উড়তে শেখে। ফটোগ্রাফার মশিউর রহমান বলেন, ‘নীল লেজ সুঁইচোরা পাখি দেখতে অনেক সুন্দর। এরা প্রজননের সময় লোকালয়ে আসে। তখন একসঙ্গে অনেক পাখি দেখা যায়। এমনিতে বনে লুকিয়ে থাকে।’
