লিংকডইনে খেলোয়াড় খুঁজে দল গড়েছিল কেপ ভার্দে
স্পোর্টস ডেস্ক
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচডেতেই বড় চমক দেখিয়েছে আফ্রিকার ছোট দেশ কেপ ভার্দে। ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দলটি।
‘এইচ’ গ্রুপের এই ম্যাচে স্পেন ছিল স্পষ্ট ফেভারিট। তবে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলে ম্যাচ জুড়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখে কেপ ভার্দে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের শিবিরে নেমে আসে উল্লাসের বন্যা।
মাত্র চার হাজার বর্গকিলোমিটারের কিছু বেশি আয়তন আর প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম ছোট দেশ। তবে তাদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত দল গঠনের গল্প।
২০১০ সালে তৎকালীন কোচ লুসিও আন্তুনেশ এক অভিনব উদ্যোগ নেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা কেপ ভার্দে বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহার করা হয় পেশাদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন। ‘প্রজেক্ট লিংকডইন’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগ থেকেই গড়ে ওঠে বর্তমান দলের বড় অংশ।
বর্তমান স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জনই দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া। নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে উঠে আসা এসব খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা (জোসিমার দিয়াস)। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয় কেপ ভার্দে। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা হঠাৎ করেই আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।
অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ইস্তোপিরাও দলের অন্যতম ভরসা। তার গোলেই বাছাইপর্বে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় দলটি।
২০১৪ সালে জাতীয় স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর থেকেই ধীরে ধীরে উন্নতি করতে শুরু করে কেপ ভার্দে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় অবশেষে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে আসে তারা।
সূত্র: সিবিএস স্পোর্টস
