জানা গেল মেসির সেই কান্নার কারণ

অনলাইন ডেস্ক

গত মঙ্গলবার রাতে কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। তবে গোল করার পর আর্জেন্টিনার এই মহাতারকাকে যেভাবে চোখের জল ফেলতে দেখা গেছে, তা ছুঁয়ে গেছে গোটা ফুটবল বিশ্বকে। জীবনের শেষ বিশ্বকাপ বলেই মেসি এতটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন বলে প্রথমে অনেকে ধারণা করলেও, আসল কারণটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বেশ বেদনাদায়ক। আর্জেন্টিনার একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মেসির এই কান্নার পেছনে রয়েছে তার বাবা হোর্হে মেসির গুরুতর অসুস্থতা।

৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি কেবল লিওনেলের বাবাই নন তিনি তার দীর্ঘদিনের এজেন্ট এবং বিজনেস ম্যানেজারও বটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক আগের সপ্তাহে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়, যা মাঠের নামার আগে মেসিকে মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে গোল করে আর্জেন্টিনার খাতা খোলার পরেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। ম্যাচ শেষে নিজের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে মেসি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ মাঠের বাইরের এবং খেলাধুলার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন তার জন্য ভীষণ কঠিন এবং জটিল ছিল বলেও তিনি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হোর্হে মেসির কার্ডিওভাসকুলার এবং স্নায়বিক কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এমন চরম মানসিক চাপ ও পারিবারিক সংকট মাথায় নিয়েও কানসাস সিটির ভরা গ্যালারির সামনে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন মেসি। অফসাইডের কারণে একটি গোল বাতিল না হলে এদিন তার নামের পাশে চারটি গোল থাকতে পারত। ৭৬ মিনিটে যখন তাকে তুলে নেওয়া হয়, ততক্ষণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করে ফেলেছেন এলএমটেন। একই সাথে বিশ্বকাপে ১৬টি গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন তিনি। নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি রাঙানোর পর কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য দলের সতীর্থ এবং স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেসি। রেকর্ডের আলোয় মাঠ আলোকিত করলেও, অন্তরালে এক চিরন্তন মানবিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই ফুটবল জাদুকর।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights