টিকায়ও কমছে না হামের প্রকোপ
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামসহ সারা দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। কিন্তু ক্যাম্পেইনের পর মাস পার হলেও এখনো কমেনি হাম আক্রান্ত এবং হাম উপসর্গের সংক্রমণ। প্রতিদিন গড়ে ৫০ খেকে ৫৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। মৃত্যু কমলেও হামের উপসর্গ নিয়ে এখনো প্রতিদিন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। গত শনিবার এক দিনে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৫১ জন, গত শুক্রবার ভর্তি হয় ৫২ জন এবং বৃহস্পতিবার ভর্তি হয় ৫৭ জন। জানা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে মাসব্যাপী হাম প্রতিরোধে টিকা প্রদান ক্যাম্পেইন কর্মসূচি পরিচালিত হয়। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে এবং নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৩ লাখ ১৮ হাজার ১১৬ জন শিশুকে হামের বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন, টিকা দেওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে শিশুর শরীরে হামের প্রতিরোধ ক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়। কিন্তু গত ২০ মে ক্যাম্পেইন শেষ হয়। এক মাস পার হলেও সংক্রমণ না কমায় অভিভাকদের মধ্যে আতঙ্ক-উদ্বেগ ভর করেছে। হামে আক্রান্ত উপসর্গ নিয়ে যদি হাসপাতালে রোগী বন্ধ হয় কিংবা হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু না হয়, তাহলেই বোঝা যাবে হাম নিয়ন্ত্রণে আছে। অন্যদিকে, ক্যাম্পেইনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হলেও বাস্তবে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে শঙ্কাটা বাড়ছে।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, টিকা দেওয়াটা একটা প্রতিরোধ মাধ্যম। কিন্তু এবারের হামটা কোন ভাইরাসের তা গবেষণার বিষয়। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা এবং গবেষণার ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাম ক্যাম্পেইনের পর সংক্রমণ কিছুটা কমছে বলে আমরা মনে করি। টিকার কার্যকরী শুরু হতেও হয়তো সময় নিচ্ছে।
