সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের ভাষা অরুচিকর
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় একশ্রেণির মানুষ এখন যে ভাষা ব্যবহার করে তা অত্যন্ত নোংরা, নিকৃষ্ট ও অরুচিকর। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও উসকানি প্রদানে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা আছে। গুজব ও অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে পরাজিত শক্তি পুনরুত্থানের পথ খুঁজে পাবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ডিজিটাল আসক্তি তৈরি হচ্ছে, তা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
রাজধানীর এফডিসিতে গতকাল বিতর্ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ড. মাহবুব উল্লাহ আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার শঙ্কা আছে। তবে ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে একত্রিত হয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করার শক্তি এখন নেই। এমন শক্তি তাদের এখনো হয়নি। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উসকানি ও অপপ্রচার এখনো অব্যাহত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি ও অপপ্রচার অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে আমাদের সাবধান ও সচেতন থাকতে হবে। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যাতে অপতৎপরতা চালাতে না পারে তার জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেতন থাকতে হবে। সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরির লক্ষ্যে একশ্রেণির মানুষ মুহূর্তের মধ্যে বানোয়াট, মিথ্যা তথ্য ও গুজব ভাইরাল করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতিতে আঘাত হেনে পোস্ট দিয়ে দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করে এরা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিকৃত তথ্য, ছবি বা ভুয়া প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি করে। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে সরকারি দল প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাছুদুর রহমান, মিরাজ মাহবুব ইফতি, আতিকুর রহমান ও জাফর ইকবাল।
