দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, তিন সদস্যের কমিটি গঠন
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধ ও বাঁশের পাইলিংয়ে ধসের কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আগামী ২৮ জুন ঢাকা থেকে তিন সদস্যের টিম সরেজমিনে মহিপুর পরিদর্শন করবেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুছা।
জানা গেছে, গত শনিবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুরে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও আর ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলজিইডির ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। একইসঙ্গে সেতু রক্ষা বাঁধেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
গত বছর ভাঙন পরিস্থিতি সামাল দিতে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং বসানো হয়েছিল। তবে সেই পাইলিং (স্পার) বসানোর ছয় মাস না যেতেই পানি বৃদ্ধির প্রথম ধাক্কাতেই ভেঙে গেছে।
এতে করে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেখানে ৬০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছর ভাঙনে বাঁধের ১০০ মিটারের বেশি অংশ নদীতে বিলীন হয়।
এরপর স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং বসানো হয়। নদীর তীব্র স্রোতে এবার সেই পাইলিং ভেঙে গেছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, প্রথম দিকেই ভাঙন দেখা দিলে যদি দুই-এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হতো, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ না আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ১৪ লাখ টাকার কাজ প্রথম ধাক্কাতেই ধসে হয়ে গেছে।
রংপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুছা বলেন, বাঁশের পাইলিং ভেঙে যাওয়ায় এলজিইডির কোন গাফিলতি নেই। পাইলিংয়ের সামনে কচুরিপানা জমেছিল। হঠাৎ পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পাইলিং ভেঙে গেছে।
তিনি আর জানান, আগামী ২৮ জুন এলজিইডির উচ্চ পর্যায়ে তিন সদস্যের একটি টিম পরিদর্শনে ঘটনাস্থলে যাবেন। পরিদর্শন শেষে সেতু ও সড়ক রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
