কুড়িগ্রামে সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনও সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মঙ্গলবার দুপুর থেকে আবারো তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে নদ-নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
স্থানীয় পাউবো জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত ৪ দিন ধরে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের মধ্যে থাকলেও গত রাতের পর আজ বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৬টা থেকে দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ১০সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। তবে বিকেলের দিকে এ নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি ৭ থেকে ৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।আবার তিস্তা নদীর পানি বিকেলের
দিকে কমতে শুরু করে সেটিও স্থিতিশীল রয়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার তিস্তা, ধরলা,ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার
নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষ নতুন করে জলাবদ্ধতা ও বন্যা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার ৩৬টি পয়েন্টে নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও নদ নদীর অববাহিকার কিছু পাটক্ষেতে, ভুট্টা ও শাকসবজি ক্ষেতে পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।এছাড়াও তিস্তা নদীর চরের উঠতি বাদাম খেতেও কিছুটা পানি উঠায় কৃষকরা তাদের নৌকায় করে সে ফসল ঘরে তুলছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ও জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী আরও তিন দিন জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে এ নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
