বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় উদ্যোগ, প্রতি পৌরসভায় হচ্ছে এমআরএফ সেন্টার
বাসস
যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মহাপরিকল্পনার আওতায় দেশের প্রতিটি পৌরসভায় পর্যায়ক্রমে স্থাপন করা হচ্ছে ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ) সেন্টার।
এসব এমআরএফ সেন্টারে পৌর এলাকার দৈনন্দিন বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, পুনর্ব্যবহার এবং জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভবিষ্যতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে যেসব পৌরসভায় এখনো ডাম্পিং স্টেশন বা ডাম্প ইয়ার্ড নেই, সেসব পৌরসভার জন্য প্রয়োজনীয় খাস জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা প্রশাসকদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, স্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে সরকারি খাস জমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নগর উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত সচিব ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, অনেক দিন থেকেই দেশের প্রতিটি পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া চলছে। সবাই চাচ্ছিলেন, পৌর শহরগুলোতে যাতে প্রকাশ্যে বর্জ্য ফেলা না হয়। সরকারের পক্ষ থেকে যাতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অবশেষে বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের সেই চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশব্যাপী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান রূপ দেখতে পারবে বাংলাদেশ।
