নিউ ইয়র্কে মাঠের বাইরের বিশ্বকাপ যেভাবে জিতে নিচ্ছেন মেয়র জোহরান মামদানী
অনলাইন ডেস্ক
নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপের উন্মাদনা শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ যাতায়াত, স্বল্পমূল্যের টিকিট এবং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাঠের বাইরেও তিনি যেন নিজের মতো করে একটি বিশ্বকাপ জিতে নিচ্ছেন।
চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে নিউ ইয়র্ক এখন বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ফুটবল নগরীতে পরিণত হয়েছে। হাডসন রিভার পার্কে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ দেখতে হাজারো মানুষের উপস্থিতি, টাইমস স্কয়ারে জার্মানি ও ইকুয়েডরের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন বিশ্বকাপের আমেজ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, এই পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মেয়র জোহরান মামদানী। একজন রাজনীতিকের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমী হিসেবেও তিনি সমর্থকদের কাছে নিজেকে তুলে ধরেছেন এবং বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার চেষ্টা করেছেন।
ফিফার টিকিট নীতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে মামদানী নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারের বিশেষ টিকিট লটারির ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামে পানির বোতল বহনে নিষেধাজ্ঞার মতো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি আপত্তি জানান।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাওয়ার ট্রেনের ভাড়া ১৫০ ডলার নির্ধারণ করা হলে নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে সমন্বয় করে মাত্র ২০ ডলারে শাটল বাস চালুর উদ্যোগ নেন তিনি।
অভিবাসন ইস্যুতেও ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মামদানী। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নিউ ইয়র্ককে অভিবাসীদের শহর হিসেবে তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে আগত দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ওয়েলকাম হোম।
মামদানীর জনপ্রিয়তার সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গনের সাম্প্রতিক সাফল্যেরও মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। আর্সেনালের সমর্থক এই মেয়রের প্রিয় ক্লাব দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে। একই সময়ে তাঁর প্রিয় বাস্কেটবল দল নিউ ইয়র্ক নিক্সও ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবার এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের প্রতিষ্ঠাতা জুল রিমের যে বৈশ্বিক সম্প্রীতির ভাবনা ছিল, নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরে মামদানীর উদ্যোগে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মাঠের বাইরেও ফুটবলকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার প্রচেষ্টার জন্য তিনি এখন আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
সোর্সঃ দ্য গার্ডিয়ান
