কুড়িগ্রামে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিপাতের কারণে গত ৫ দিন ধরে জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি কমছে ও বাড়ছে। ফলে এসব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে ওঠানামা করছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তিস্তা, দুধকুমার, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমলেও এখন প্রবল স্রোত দেখা দেয়ায় নদী ভাঙন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড শুক্রবার বিকেলে জানায়, প্রতিটি নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

এদিকে, পানি কমার সাথে সাথে জেলাজুড়ে তীব্র নদী ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের অনেক মানুষ। একদিকে নদনদীর পানি বৃদ্ধি, অপরদিকে নদী ভাঙন। এতে অনেকেই মারাত্মক চিন্তায় পড়ছেন।
ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের ৩৬ টি পয়েন্টে এখন দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। তবে ২০টি পয়েন্টে তুলনামূলক বেশি নদী ভাঙছে।বসতভিটা, গাছপালা, ফসলিজমি সহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলিন হচ্ছে প্রতিদিন।নদীর পানি বেশি থাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করতে পারছেন না পাউবো কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি ক্ষণস্থায়ী ও স্বল্প মেয়াদি বন্যায় জেলার সদরের ও রাজারহাটে প্রায় ৫ হেক্টর জমির পটল খেত, শাক সবজি ও অন্যান্য ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় কৃষকরা ক্ষতির আশংকা করছেন। কিন্তু পানি সরে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না বলেও জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোডের নিবাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, নদনদীর পানি দ্রুতই কমছে। স্বল্প মেয়াদি বন্যায় সবকটি নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ক্রমেই হচ্ছে। তবে নদী ভাঙনে কাজ করা যাচ্ছে না। এখন জেলার ৩৬টি পয়েন্টে নদী ভাঙছে। তবে আমরা বিগত দিনে জিওব্যাগ ফেলে কাজ করতে গেলেও তা পুরোপুরি করা যাচ্ছে না। তবে পানি কমে আসলে দ্রুতই ভাঙন কবলিত এলাকার ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights