ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন কঙ্গোর

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে আরেকটি আকর্ষণীয় লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও কঙ্গো। যুক্তরাষ্ট্রের মার্সেডিজ বেঞ্চ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য শেষ বত্রিশের এই ম্যাচে কাগজে-কলমে পরিষ্কার ফেভারিট ইংল্যান্ড। তবে বিশ্বকাপের নকআউটে চমকের গল্প নতুন নয়, আর সেই অঘটনের স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড গ্রুপ ‘এল’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে। যদিও তাদের পারফরম্যান্স সব সমালোচকের মুখ বন্ধ করতে পারেনি। গ্রুপপর্বে দলটি সব ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেও প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। শেষ ম্যাচে পানামার বিপক্ষে প্রথমার্ধে কিছুটা নিষ্প্রভ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্স। অধিনায়ক হ্যারি কেন এবং জুডে বেলিংহামের দ্রুত দুই গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ইংলিশরা।

এই ম্যাচে গোল করে কেইন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এখন তার সামনে আরেকটি মাইলফলক-বিশ্বকাপ নকআউটে আরও গোল করে গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ। আক্রমণে তার সঙ্গে থাকবেন বুকায়ো সাকা ও মার্ক রাশফোর্ড। দুজনে উইং থেকে গতি ও সৃজনশীলতা যোগ করবেন।

ইংল্যান্ডের বড় শক্তি তাদের গভীর স্কোয়াড এবং ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা। টুখেলের অধীনে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এখনো অপরাজিত থ্রি লায়ন্স। ১১ ম্যাচে ১০ জয় ও ১ ড্র। এই পরিসংখ্যান ইংল্যান্ডকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে, যদিও ডিফেন্সে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। রাইট-ব্যাক জারেল কোয়ানশা ইনজুরিতে অনিশ্চিত, আর রিস জেমস প্রায় ছিটকে গেছেন।

অন্যদিকে কঙ্গো এই বিশ্বকাপের অন্যতম চমক। সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিং নিয়ে নকআউটে উঠেছে তারা। গ্রুপপর্বে ৪ পয়েন্ট এবং পজিটিভ গোল ব্যবধান নিয়ে তারা ইতিহাস গড়েছে। ডিআর কঙ্গো নামে এটাই তাদের প্রথম বিশ্বকাপ, আর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বেও খেলছে তারা। ১৯৭৪ সালে ‘জায়ার’ নামে বিশ্বকাপে অংশ নিলেও গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

সেবাস্তিয়েন দেসাব্রে এর দল শুরু থেকেই লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে ম্যাচ ঘুরিয়ে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে, তা তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে। সেই ম্যাচে নায়ক ছিলেন ইয়োনে উইসা। দুই গোল করে দলকে জিতিয়েছেন। তার সঙ্গে আক্রমণে থাকতে পারেন অভিজ্ঞ সেডরিক বাকাম্বু। অথবা ফর্মে থাকা ফিস্টন মায়েলা।

কঙ্গোর বড় শক্তি তাদের দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং শারীরিক ফুটবল। ইংল্যান্ড যদি মাঝমাঠে বল হারায়, তাহলে উইসার গতি থ্রি লায়ন্সের রক্ষণে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। কোচ দেসাব্রে প্রয়োজন হলে আবার ৫-৩-২ ফরমেশনে ফিরতে পারেন, যাতে রক্ষণ আরও শক্তিশালী হয়।

দুই দলের এটি হবে ইতিহাসের প্রথম মুখোমুখি লড়াই। অভিজ্ঞতা, স্কোয়াড গভীরতা এবং তারকাখচিত আক্রমণভাগে ইংল্যান্ড অনেকটাই এগিয়ে। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর নির্ভীক মানসিকতা ও আক্রমণভাগের গতি এই ম্যাচকে একপেশে হতে দেবে না।

কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড ফেভারিট হলেও বিশ্বকাপের নকআউটে অতীতের হিসাব খুব কমই কাজ করে। ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে এক মুহূর্তের ঝলক কিংবা একটি ভুল-সবকিছু বদলে দিতে পারে। থ্রি লায়ন্স কি প্রত্যাশা পূরণ করবে, নাকি লেপার্ডস লিখবে নতুন রূপকথা- সেই উত্তর মিলবে মাঠেই।

ইংল্যান্ডের কোচ টুখেল বলেন, ‘কঙ্গোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটা নকআউট পর্বের ম্যাচ, এখানে ভুল করে টিকে থাকা যায় না। শুরু থেকেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেন, বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ মানেই মানসিক লড়াই। আমরা জানি চাপ থাকবে, কিন্তু এই চাপ দলকে বড় করে তোলে।’

কঙ্গোর কোচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে বলেন, সবাই জানে ইংল্যান্ড ফেবারিট। তবে মাঠে নামার পর নাম নয়, পারফরম্যান্স কথা বলে। সেখানে কে ফেবারিট তা বিবেচ্য নয়। আমরা তাদের ভয় পাই না। আমাদের খেলোয়াড়রা ইউরোপের বড় লিগে খেলে থাকে। বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাদেরও আছে। আমরা তাদের সম্মান দেখাই, কিন্তু ভয় পাই না।

কঙ্গোর অধিনায়ক এমবেম্বায় বলেন, আমরা ইতিহাস গড়তে চাই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় শুধু আমাদের নয়, পুরো আফ্রিকার জন্য বড় ঘটনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights