বিতর্কের পরও ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে হাইড্রেশন বিরতি রাখতে চায় ফিফা
অনলাইন ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম হিসেবে চালু হওয়া হাইড্রেশন বিরতি (পানি পানের বিরতি) নিয়ে সমর্থক, খেলোয়াড় ও কোচদের ব্যাপক সমালোচনা হলেও ভবিষ্যতের বিশ্বকাপেও এই নিয়ম বহাল রাখতে চায় ফিফা।
মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের শেষ বত্রিশের ম্যাচকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচটি এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়ার আগে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, এই ম্যাচে কোনো হাইড্রেশন বিরতি থাকবে না। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর দুই অর্ধেই বিরতি দেওয়া হয়। পরে ফিফা তাদের বিবৃতি সংশোধন করে হাইড্রেশন বিরতির বিষয়টি সরিয়ে দেয়।
এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক সমর্থক। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ফিফা নিজেদের ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকের মতে, বিরতিগুলো মূলত সম্প্রচারকারীদের বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই প্রায় তিন মিনিটের দুটি হাইড্রেশন বিরতি রাখা হয়েছে। ফিফার ভাষ্য, উত্তর আমেরিকার আবহাওয়া ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরতির সময় খেলোয়াড়রা পানি পান করার পাশাপাশি কোচদের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনাও নিতে পারেন।
তবে সমালোচকদের দাবি, প্রতিটি ম্যাচে বাধ্যতামূলক বিরতি খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল এবং নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকসহ অনেকেই এই নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, প্রচণ্ড গরম থাকলেই কেবল এমন বিরতি থাকা উচিত।
অন্যদিকে সাবেক লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তার মতে, খেলোয়াড়দের জন্য বিরতি উপকারী হলেও বর্তমান সময়সীমা কিছুটা বেশি। তিনি বলেন, পানি পান করতে এত দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না, তাই বিরতির সময় কমানো যেতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সিটি এএম জানিয়েছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে এবং ২০৩৪ সালের আসর সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে গরমের তীব্রতা আরও বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণেই ফিফা টুর্নামেন্ট শেষে বিষয়টি পর্যালোচনা করলেও ভবিষ্যতের বিশ্বকাপেও হাইড্রেশন বিরতি চালু রাখার পরিকল্পনা করছে।
সূত্র : স্পোর্টস বাইবেল
