প্রতারণার শিকার নাটোরের ৮ শিক্ষার্থী বসলেন এইচএসসি পরীক্ষায়
নাটোর প্রতিনিধি
অফিস সহকারীর প্রতারণার শিকার নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থীরা। আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আব্দুলপুর সরকারি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মাহমুদুল রহমান।
শিক্ষার্থীরা হলো-ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল, তানভীর হোসেন, শাওন, সাব্বির এবং শিমুল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, অনলাইনে ফরম পূরণ করতে গেলে সার্ভার জটিলতা দেখা দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের কাছে প্রত্যেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে জমা দেন তার কাছে। ফরম পূরণের আশ্বাস দিল শেষ পর্যন্ত তিনি তা করেননি।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, তাদের ফরম পূরণ করা হয়নি। পরে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র নেওয়ার জন্য অফিস সহকারীর সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করলে তার ফোনটি বন্ধ পায় তারা। কলেজে গিয়েও তার দেখা পায়নি শিক্ষার্থীরা। আমরা চাই, তার শাস্তি হোক। আমাদের মতো আর কোন শিক্ষার্থী যেন এমন প্রতারণা শিকার না হয়।
পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি বলেন, ভাবতেই পারিনি যে পরীক্ষা দিতে পারবো। আমি অনেক খুশি, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এক পরীক্ষার্থীর বাবা ইমামুল হক জানান, একজন ব্যক্তির প্রতারণার কারণে ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরীক্ষা দিতে পারছেন এ খবর শুনে আমি অনেক আনন্দিত। অনেক কষ্ট করে মেয়েটাকে পড়ালেখা করাচ্ছি। আমার মেয়ে যেন ভালো রেজাল্ট করতে পারে, সেজন্য সবাই দোয়া করবেন
এ বিষয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুল রহমান জানান, সরকার ও শিক্ষাবোর্ডের হস্তক্ষেপে ৮ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করেন। প্রবেশপত্র শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আজ শনিবার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ৮ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
