ব্রহ্মপুত্র-ঘাঘট নদের পানি বেড়েছে
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ঘাঘট নদীর পানি আরও বেড়েছে। তবে কমেছে করতোয়া ও তিস্তা নদীর পানি। এসব নদনদীর পানি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঘাঘট নদের পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এদিকে তিস্তা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ও করতোয়া নদীর পানি ৪৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৩১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। চলমান এ বন্যা মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। এদিকে মাসখানেক ধরে জেলার সব নদনদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এ পানি ওঠানামার সঙ্গে নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২০০ বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে আরও শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি ও বসতবাড়ি ভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষাবাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন রোধে আসন্ন বন্যার আগেই ব্যবস্থা না নিলে জেলার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার প্রধান নদনদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভারী বৃষ্টি ও বন্যার শঙ্কা : উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপটি গতকাল দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রবিবার দুপুরের মধ্যে উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং চারটি সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
