তিন স্বাগতিকের বিদায়
ক্রীড়া প্রতিবেদক
গ্যালারিভর্তি দর্শকের উন্মাতাল গর্জন, চেনা কন্ডিশন আর চেনা মাঠ-কোনো কিছুই যেন নিয়তি বদলাতে পারল না। চলতি উত্তর আমেরিকা আসরের নকআউট পর্বের রাউন্ড অব ১৬-তে এসে এক চরম ট্র্যাজেডির সাক্ষী হলো ফুটবলবিশ্ব। বিশ্বসেরা হওয়ার মঞ্চে নিজেদের আঙিনা থেকে একে একে বিদায় নিল তিন যৌথ আয়োজক দেশ-কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র। ফুটবলের এ মহাযজ্ঞে স্বাগতিকদের এমন করুণ পরিণতি এর আগে খুব কমই দেখা গেছে। তিন স্বাগতিকে এই বিদায়ের পর আসর এখন সম্পূর্ণ আয়োজক-শূন্য। ফুটবলারদের মাঠের কান্না আর গ্যালারির নীরবতা স্পষ্ট করে দিল ঘরের মাঠের সুবিধা থাকলেই যে বিশ্বজয় করা যায় না, ২০২৬ বিশ্বকাপ তারই এক নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল।
তিন স্বাগতিকের মধ্যে মরক্কোর দেওয়া ধাক্কায় প্রথম পতন কানাডার। হিউস্টন স্টেডিয়ামে রূপকথার গল্প লিখতে নেমেছিল ম্যাপলপাতার দেশটি। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়া কানাডিয়ানদের অহংকার চূর্ণ করে দেয় উত্তর আফ্রিকার শক্তি মরক্কো। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুসংগঠিত ফুটবল খেলে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় মরক্কো। আক্রমণে ধারহীন আর রক্ষণে ভঙ্গুর কানাডা ম্যাচজুড়ে পাত্তাই পায়নি। ফলে একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় আলফনসো ডেভিসের দলকে। এবারই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউটে জয়ের স্বাদ পায় কানাডা।
এরপর আজটেকায় মেক্সিকোর কান্না। কানাডার বিদায়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এ স্টেডিয়ামে তৈরি হয় ট্র্যাজেডির নতুন এক অধ্যায়। গ্রুপ পর্বে কোনো গোল হজম না করে গ্রুপসেরা হওয়া মেক্সিকানরা ঘরের মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল ফেবারিট ইংল্যান্ডের। ম্যাচের শুরু থেকেই জুড বেলিংহ্যামের জাদুতে কোণঠাসা হয়ে পড়া মেক্সিকো ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। হুলিয়ান কিনোনেস ব্যবধান কমালেও শেষ রক্ষা হয়নি। চরম উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ৩-২ গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় থ্রি লায়ন্সরা। আজটেকার স্তব্ধ গ্যালারি সাক্ষী হয় মেক্সিকোর সোনালি প্রজন্মের আরেকটি ব্যর্থতায়।
তিন আয়োজকের মধ্যে শেষ ভরসা হয়ে টিকে ছিল একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বেলজিয়ামের ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ল তারা। সিয়াটলের লমেন ফিল্ডে ইউরোপের রেড ডেভিলরা যে ঝড় তুলবে, তা হয়তো মার্কিন ডিফেন্ডারদের ভাবনায় ছিল না। চার্লস ডি কেটেলারার জোড়া গোল এবং রোমেলু লুকাকুর শেষ মুহূর্তের কামড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেয় বেলজিয়াম। মালিক টিলম্যান স্বাগতিকদের হয়ে সান্ত্বনাসূচক একটি গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছেন। ২০১০ আসরের পর আরও একবার শেষ ১৬-এর জুজু কাটাতে ব্যর্থ হলো মার্কিনিরা।
