যমুনায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে ভাঙ্গন, আতঙ্কে বাসিন্দারা
বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির কারণে বগুড়ার ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বাড়ার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। যার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
বিশেষ করে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান এলাকায় গত কয়েকদিনে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্পার বাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে গেছে। এছাড়া মূল বাঁধও এখন মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।
জানা যায়, যমুনার ভাঙনে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী চর, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউসারিয়াকান্দি, আটারচর, পুকুরিয়া, ভূতবাড়ি, কৈয়াগাড়িসহ ৮ থেকে ১০টি জনপদ অনেক আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে বসতভিটা, ঘরবাড়ি ছাড়াও আবাদি জমি হারিয়ে এখন নিঃস্ব হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।
সারিয়াকান্দি পয়েন্টেও যমুনার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙনের কবলে পড়ে অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আতঙ্ক নদীভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, যমুনা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বগুড়ার ধুনটে একটি স্পার বাঁধের ৩০ মিটার অংশ ধসে গেছে। গত শুক্রবার থেকে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের শহড়াবাড়ি স্পার এলাকায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বানিয়াজান থেকে শহড়াবাড়ি পর্যন্ত নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। এই এলাকার বাঁধে বসতি গড়ে বসবাস করা শত শত পরিবার শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া বাঙালি ও করতোয়া নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বৃষ্টির কারণে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এতে করে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।
