দুই দিনে ইরানে ১৭০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক
গত দুই দিনে ইরানের অন্তত ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে গেছে বলে তিনি মনে করেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাত এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন পরিচালনা কেন্দ্র, অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৭০টি পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি কমিয়ে আনা।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সম্প্রতি ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত আর কার্যকর নেই। তার এই মন্তব্যের পর কূটনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ভবিষ্যতে কোনও আলোচনা আদৌ সম্ভব হবে কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে কোনও ধরনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইভাবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্যও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনও আসেনি। তবে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ, সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights