রাঙামাটিতে পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ, নিহত ২

ফাতেমা জান্নাত মুমু,রাঙামাটি

পাহাড়ে কিছুতেই থামছে না বৃষ্টি। কখনো ভারি, কখনো মাঝারি, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টা ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এরই মধ্যে রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮০০অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

পানি বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলাবাসি। অন্যদিকে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে এক নিখোঁজ রয়েছে। এখনো তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাঙামাটি সদর এলাকার মগবানে ইউনিয়নে বানের পানিতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দলমনি চাকমা নামের আরও একজনের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচদিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে। পাহাড় ধসে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাঙামাটি- চট্টগ্রাম, কাপ্তাই- আসামবস্তি, রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া, রাঙামাটি- খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও সাজেক সড়ক। এছাড়া ভেঙ্গে গেছে রাঙামাটি শহরের উন্নয়নবোর্ড সংলগ্ন আভ্যন্তরিন সড়ক। রাঙাপানি ভেদভেদী সড়ক ।

রাঙামাটি সড়ক ও জন পদের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানায়, রাঙামাটি ১৬টি স্থানে পাহাড় ধসে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত মাটি সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবি রাখা হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত আরও অব্যাহত থাকলে যানচালাচল বন্ধ হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে রাঙামাটি।

এদিকে পাহাড় ধসে বাড়ি ঘর ক্ষতি হয়ে বিলাইছড়ি ৩৭টি স্থানে। ঘর ভেঙে গেছে কাউখালী উপজেলার বেশি কিছু মানুষের। এছাড়া নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে রাঙামাটি তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, রাঙামাটি ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০০অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাচালং নদীতে পানি বৃদ্ধি আর দীঘিনালায় সড়কে পাহাড় ধসের কারণে পর্যটকদের সাজেকে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। মাঠে কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ম্যাজিন্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ ও সেচ্ছা সেবক দলগুলো।

এদিকে গত বুধবার রাতে রাঙামাটিতে হঠাৎ সফর করেছেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন। তিনি রাঙামাটি বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখান। পরে সাংবাদিকদের বলেন, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৩০০ মেট্টিক টন খাদ্য শষ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা ক্ষত্রিগস্ত হয়েছে তাদের পরবর্তিতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়া রাঙামাটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান । তিনিও আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষদের খাবার বিতরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights