কোটি মানুষের শ্রদ্ধায় মাশহাদে শায়িত খামেনি
প্রতিদিন ডেস্ক
এক সপ্তাহ চলা কোটি মানুষের নজিরবিহীন গণজানাজা ও শোকমিছিলের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে উত্তর-পূর্ব ইরানের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থান মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। কড়া নিরাপত্তায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জানাজা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইরাকে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে দেরি হওয়ায় অনুষ্ঠানটি দুপুর ২টার পর শুরু হয়। প্রসঙ্গত, এর আগে রাতের বেলা এ শহরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়ে রেলপথসহ যাতায়াতের বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত করে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে খামেনিসহ অন্যান্যদের লাশ তেহরান, পবিত্র কোয়াম শহর এবং ইরাকের শিয়াদের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালা ঘোরানোর পর মাশহাদে তাঁদের সমাহিত করা হয়। খামেনির সঙ্গে একই কবরে সমাহিত করা হয় তার শিশু নাতনি, জামাতা, কন্যা এবং পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেলকে।

দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাশহাদ শহরে প্রায় দুই কোটি মানুষের ঢল নামে। এ সময় উপস্থিত জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ‘কিল ট্রাম্প’ লেখা প্ল্যাকার্ড ও খামেনির ছবি দেখা যায়। তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার রক্তের কসম, ট্রাম্প আমরা তোমাকে হত্যা করব’। জানাজায় উপস্থিত বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মহসেনি এজেঈ। এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি এবং আইআরজিসির কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কায়ানিও এ জানাজার নামাজে অংশ নেন। অন্যদিকে, আলী খামেনির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তিনিও মার্কিন হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। তেহরানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং মার্কিন হামলার ঝুঁকি এড়াতে তাঁকে আপাতত জনসাধারণের সামনে আনা হচ্ছে না।
