ছয় দফা সময় বাড়িয়েও অসম্পূর্ণ মেগা প্রকল্প
হাসান ইমন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হয় ২০১৬ সালে। লক্ষ্য ছিল সড়ক, ফুটপাত, ড্রেনেজ, পার্ক, খেলার মাঠ, কবরস্থান, কসাইখানা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন ও নগর ভবনসহ বিভিন্ন নাগরিক অবকাঠামোর উন্নয়ন। এক দশকেও অনেক কাজ অসমাপ্ত। ছয় দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ১ হাজার ২০২ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্প বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়। ব্যয় বাড়ে প্রায় ৫১৭ কোটি টাকা। অগ্রগতি শতভাগ দেখানো হলেও বিভিন্ন স্থানে এখনো কাজ চলমান।
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুন। তবে ওসমানী উদ্যানের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, ওসমানী উদ্যানের কাজ কয়েক দফা বন্ধ থাকা এবং পান্থকুঞ্জ পার্কের কাজ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা পরিবর্তনের কারণে দেরি হয়েছে। ধূপখোলা মাঠে জমি নিয়ে জটিলতা, ঠিকাদারের গাফিলতি এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের মামলার কারণেও বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক ও উপ-প্রকল্প পরিচালক চাকরিচ্যুত হন। দ্বিতীয় প্রকল্প পরিচালক দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগ ও প্রকল্পের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসসিসির অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদন পায়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২০২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭১৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়। ব্যয় বাড়ে প্রায় ৫১৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়। প্রথমে এক বছর। পরে দুই বছর। এরপর ব্যয় না বাড়িয়ে আরও তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সবশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলেও সব কাজ শেষ হয়নি।
প্রকল্পের আওতায় ১৪০ দশমিক ৭০ কিলোমিটার সড়ক, ৩৬ দশমিক ৮০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৪১ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ উন্নয়ন, ৪৪ হাজার ৫৯৮টি এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ৩০টি বাসস্টপেজ, ৫২টি পুলিশ বক্স, ১৮টি পার্ক, ১১টি খেলার মাঠ, দুটি আধুনিক কসাইখানা, তিনটি কবরস্থান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১১টি আবাসিক ভবন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন এবং নগর ভবনের সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অন্তর্ভুক্ত।
