কোয়ার্টারে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে হোটেল নিয়ে বিড়ম্বনায় নরওয়ে
স্পোর্টস ডেস্ক
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটে পড়েছে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। আগামী রবিবারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে মাঠের প্রস্তুতির চেয়ে মাঠের বাইরের হোটেল বিভ্রাট এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি সামাল দিতেই বেশি ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে নরওয়ে শিবিরকে।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে রূপকথার জয় পাওয়ার পর যেখানে দলটির ফুরফুরে মেজাজে থাকার কথা ছিল, সেখানে সাউথ ফ্লোরিডায় গিয়ে তাদের তড়িঘড়ি করে পুরো হোটেলই পরিবর্তন করতে হয়েছে।
জানা গেছে, ফোর্ট লাউডারডেলের ‘দ্য ডালমার’ হোটেলে মাত্র এক রাত কাটানোর পরই তা ছেড়ে দেয় নরওয়ে দল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিয়ামি হেরাল্ড ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হোটেলের ঠিক পাশেই একটি নির্মাণাধীন ভবনের তীব্র শব্দ এবং চারপাশের অতিরিক্ত যানজটের কারণে ফুটবলারদের বিশ্রামে চরম ব্যাঘাত ঘটছিল। এ ছাড়া হোটেলের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায় নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। দলের লজিস্টিক ডিরেক্টর ট্রুলস ডাহলি নরওয়েজিয়ান গণমাধ্যম টিভি২-কে জানান, এমন একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতা বজায় রাখতেই তারা দ্রুত হোটেল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম অনুযায়ী ফিফা নতুন হোটেলের ৫০টি রুম, নিরাপত্তা ও যাতায়াত খরচের একটি অংশ বহন করলেও, নতুন হোটেলটি বেশি ব্যয়বহুল হওয়ায় বাড়তি খরচ নরওয়ে ফেডারেশন নিজেই দিচ্ছে।
হোটেল বিতর্কের পাশাপাশি চলতি সপ্তাহের শুরুতে নরওয়ে শিবিরে এক অদ্ভুত অসুস্থতার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছিল। কোচ স্টেল সোলবাকেন অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বা অন্য কোনো ফুটবলার অসুস্থ নন, কেবল স্টাফদের মধ্যে দু-একজন কিছুটা অসুস্থ বোধ করেছিলেন। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী ও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের সব তারকা খেলোয়াড় সম্পূর্ণ ফিট আছেন, যা নরওয়ের জন্য স্বস্তির খবর।
এই ম্যাচটিকে ঘিরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একটি দারুণ আবহ তৈরি হয়েছে, কারণ নরওয়ের দুই প্রধান সেনাপতি আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ড ইংলিশ ফুটবলের পরিচিত মুখ। তবে কোচ সোলবাকেন মনে করেন না যে এটি তাদের খুব বাড়তি কোনো সুবিধা দেবে, কারণ ইংল্যান্ডের মূল গোলদাতা হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহাম দুজনেই এখন ইংলিশ লিগের বাইরে খেলেন। সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের এই কোলাহল ও হোটেল বদলের ধকল ভুলে, ব্রাজিলের বিপক্ষে দেখানো সেই ভয়ডরহীন ফুটবল ও শৃঙ্খলা ধরে রেখে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত হচ্ছে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে ওঠা নরওয়ে।
সূত্র: মার্কা
