যেভাবে রাশিয়ার কাছে ন্যাটোর গোপন তথ্য পাচার করে ইতালির গুপ্তচর
অনলাইন ডেস্ক
পার্ক ও বারে লুকিয়ে দেখা করতেন তারা। লোকেশন যেন কেউ ধরতে না পারে, সেজন্য মোবাইল ফোন লুকিয়ে রাখতেন মাইক্রোওভেনে। আর রোমের রাস্তার দেয়ালের ফাটলে রেখে আসতেন মেমোরি কার্ড। সিনেমার গল্পের মতো লাগলেও এভাবেই রাশিয়ার কাছে ইতালি ও ন্যাটোর গোপন তথ্য বিক্রি করেছেন ইতালির সাবেক গুপ্তচর গাভিনো রাউল পিরাস (৫৯)।
সম্প্রতি পিরাসকে গ্রেপ্তার করেছে ইতালির পুলিশ। দ্য টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিটি গোপন তথ্যের জন্য তিনি পেতেন ৪ হাজার ইউরো (প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা)। রোমে থাকা রাশিয়ার গুপ্তচর মিখাইল আস্তাকভের সাথে তাকে বেশ কয়েকবার দেখা করতে দেখা গেছে। ব্যক্তিগত মেসেজ থেকে জানা গেছে, পিরাস তার আরেক সাবেক সহকর্মীর সাথে মিলে এই কাজ করতেন।
তবে এই টাকায় মোটেও খুশি ছিলেন না পিরাস। গোপন ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মিখাইলকে বলছেন এই টাকা মোটেও যথেষ্ট নয়। সামরিক বাহিনীর ভেতরের লোকদের টাকার ভাগ দিতে গিয়ে তার নিজের কফি খাওয়ার টাকাও থাকে না। তিনি আক্ষেপ করে মিখাইলকে বলেন, আগে তো তোমরা আমাকে অন্তত দুপুরের খাবারটা খাওয়াতে! নিজের ক্ষোভের কথা প্রকাশ তিনি বলেন, আমি কাজ করতে রাজি আছি, কিন্তু তোমরা বড্ড কৃপণ।
পিরাস যেসব তথ্য পাচার করেছেন, তা রোম, ব্রাসেলস ও লন্ডনের জন্য বেশ উদ্বেগের। তিনি ‘এমআই৬’-এর চরদের একটি তালিকা পাচার করেছেন, যেখানে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের বিস্তারিত তথ্য ছিল। এছাড়া রাশিয়ান টি-৯০ ট্যাংকের স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান নিয়ে ইতালির গবেষণার তথ্যও তিনি পাচার করেছিলেন।
রাশিয়ার আগ্রহ ছিল আরও অনেক সামরিক বিষয়ে। ইউক্রেনকে দেওয়া ইতালির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছিল তারা। এছাড়া ইতালির ড্রোন বোট, স্টর্ম শ্যাডো মিসাইল কেনা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ইতালি কতটুকু জানে—সেসব তথ্যও পিরাস তাদের জানিয়েছেন।
শুধু তথ্যই নয়, পিরাস রুশ গুপ্তচরদের নিরাপত্তাও দিতেন। রাশিয়া তার কাছে জানতে চেয়েছিল, ইতালির কোন্ কোন্ গুপ্তচর রুশ দূতাবাসের ওপর নজর রাখছেন। একবার পিরাস রুশ গুপ্তচরদের সতর্ক করে বলেছিলেন যে, দক্ষিণ ইতালির মাতেরা শহরে থাকা তাদের এক চর ধরা পড়ার ঝুঁকিতে আছেন।
পিরাস ২০১২ সালে ইতালির গোয়েন্দা সংস্থা থেকে অবসরে যান। এই গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই সাবেক এজেন্টের মধ্যে তিনি একজন। তার দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে সামরিক বাহিনীর অন্তত ৫ জন সদস্যকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে রুশ গুপ্তচর মিখাইল আস্তাকভের কূটনৈতিক দায়মুক্তি বা ‘ইমিউনিটি’ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয়।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এই ঘটনাকে দেশের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্রের সামান্য অংশ উন্মোচন বা ‘হিমশৈলের চূড়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে ২০২১ সালেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার অর্থের বিনিময়ে ন্যাটোর গোপন নথি কেনার অভিযোগে দুজন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সূত্র : দ্য টাইমস
