ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ছে লটকনের ফলন, ২ কোটির বাণিজ্যের আশা

মোশাররফ হোসেন বেলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লটকনের আবাদ। চলতি মওসুমে জেলার প্রায় ২১ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। অনাবাদী ও ছায়াযুক্ত জায়গায় সাথী ফসল হিসেবে লটকন চাষ করে ভাগ্যবদল করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মওসুমে জেলায় প্রায় ১৮৪ মেট্রিক টন লটকন উৎপাদিত হবে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। জেলার সবচেয়ে বেশি লটকন চাষ হয় বিজয়নগর উপজেলায়। এখানে উপজেলায় কাঁঠাল, লিচু, চায়না কমলা, মাল্টার বাম্পার ফলন হলেও উপজেলার চম্পকনগর, মেরাসানি, সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর ও পাহাড়পুর এলাকায় লটকনের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই না ধরায় লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে লটকন বাজারজাতকরণ। এছাড়া জেলার কসবা ও আখাউড়ায় লটকন চাষ হয়।

লাভজনক সাথী ফসল ও কৃষকের সাফল্য কৃষকরা জানান, অন্যান্য বড় গাছের নিচে ছায়াযুক্ত স্থানে সাথী ফসল হিসেবে লটকনের আবাদ করা যায়। এতে অতিরিক্ত কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। বিজয়নগর উপজেলার লটকন চাষি নান্নু মিয়া জানান, ২০১৫ সালে মাত্র ৩ বিঘা জমিতে ৬৫টি চারা দিয়ে তিনি বাগান শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে গাছের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০টিতে। বাগান থেকেই সরাসরি লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা। বাজারে যাতায়াতের খরচ বেঁচে যাওয়ায় কৃষকরা দ্বিগুণ লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি লটকন বাগান থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি অফিসের লোকজন নিয়মিত খোঁজখবর এবং বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করতে পারব।
কৃষকরা জানান, রসালো টক ও মিষ্টিতে ভরপুর হওয়ায় বাজারে লটকনে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এসে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে লাভবান হচ্ছে বাগানের মালিক। এসব লটকন কিনে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন স্থানে। এছাড়াও নিয়ে যাওয়া হয় পার্শ্ববর্তী ভৈরব, কুমিল্লা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন বাজারে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগ ও বৈজ্ঞানিক জাত কৃষি বিভাগ লটকন চাষে কৃষকদের আগ্রহ ও আবাদ বাড়াতে উন্নত জাতের চারা সরবরাহসহ নানা কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে প্রধানত দুটি উন্নত জাতের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) ফারহানা নাজনীন বলেন, চলতি মওসুমে জেলায় লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা প্রায় ১৮৪ মেট্রিক টন লটকন উৎপাদনের আশা করছি। বর্তমান বাজারে যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা দাঁড়াবে। ছায়াযুক্ত স্থানে সাথী ফসল হিসেবে লটকন চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় আমরা কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও উন্নত জাতের চারা দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights