সফল খেলোয়াড় থেকে বিশ্বজয়ী কোচ, দেশমের অনন্য কীর্তি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ইতিহাস গড়ার পথে ফ্রান্স। টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে লে ব্লুজরা। ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়া ফ্রান্স এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দলের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে কোচ দিদিয়ের দেশমকে।

বিশ্বসেরা প্রতিভাবান ফুটবলারদের সামলানো যেকোনো কোচের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ দলে যত বেশি তারকা থাকেন, তত বেশি তৈরি হয় ব্যক্তিগত ইগো ও প্রত্যাশার চাপ। কিন্তু দেশম গত তিনটি বিশ্বকাপ ধরে এই কঠিন কাজটি করে চলেছেন অসাধারণ দক্ষতায়।

জিনেদিন জিদান, করিম বেনজেমা থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসেদের মতো তারকাদের নিয়ে দল গড়ে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি রয়েছে দেশমের। তাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র হলো শক্তিশালী ড্রেসিংরুম ম্যানেজমেন্ট, শৃঙ্খলা এবং দলকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে রাখা।

দেশমের কোচিং দর্শনের মূল কথা ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’। কোনো খেলোয়াড় কত বড় তারকা, সেটি নয়; বরং দলের কৌশলে তিনি কতটা কার্যকর, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ফরাসি কোচ।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ করিম বেনজেমার ঘটনা। মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক ও শৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনা করে দীর্ঘ সময় তাঁকে জাতীয় দলের বাইরে রাখতে দ্বিধা করেননি দেশম। সমালোচনা ও চাপ উপেক্ষা করে ড্রেসিংরুমের ভারসাম্য বজায় রাখাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

তবে শুধু কঠোর সিদ্ধান্ত নয়, সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলানোর দক্ষতাও দেশমের অন্যতম বড় শক্তি। জিদানদের সময়ের রক্ষণনির্ভর ফুটবল থেকে পল পগবার যুগ পেরিয়ে বর্তমান দলকে তিনি তৈরি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে-কেন্দ্রিক আক্রমণাত্মক কাঠামোয়।

এমবাপ্পের গতি, প্রতিভা ও মানসিকতা বুঝে তাঁকে মাঠে সৃজনশীল স্বাধীনতা দিয়েছেন দেশম। একই সঙ্গে দলের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ রেখেছেন নিজের হাতে। তারকাদের স্বাধীনতা এবং কঠোর অনুশাসনের মধ্যে এই ভারসাম্যই ফ্রান্সকে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জিতিয়েছে এবং ২০২২ সালে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে।

দেশমের কৌশল নিয়ে অবশ্য সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই তাঁর ফুটবলকে রক্ষণাত্মক বা অতিরিক্ত হিসাবি বলে মনে করেন। তবে তাঁর ট্রফির তালিকা এবং দলের ধারাবাহিক সাফল্যই সেই সমালোচনার সবচেয়ে বড় জবাব।

২০২৬ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি মাঠের বাইরের নেতৃত্ব। ডাগআউটে থাকা শান্ত কিন্তু কঠোর দেশম জানেন কীভাবে তারকায় ভরা একটি দলকে এক সুতোয় বেঁধে চ্যাম্পিয়নের মতো খেলাতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights