মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েও দেশে ফিরতে পারছেন না আসাদুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
লিবিয়ায় অপহরণের পর পরিবারের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরও দেশে ফিরতে পারছেন না বরিশালের আগৈলঝাড়ার প্রবাসী আসাদুল বক্তিয়ার। পরিবারের দাবি, বিমান ভাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় দেড় লাখ টাকা জোগাড় করতে না পারায় তিনি দুই মাস ধরে অসুস্থ অবস্থায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীর আশ্রয়ে রয়েছেন। এদিকে ঋণের বোঝা নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে তার পরিবার।
আসাদুল বক্তিয়ার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের চাঁদত্রিশিরা গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের ভাষ্য, ২০২২ সালের অক্টোবরে বৈধভাবে ভিজিট ভিসায় লিবিয়ায় গিয়ে একটি টেইলার্স দোকানে কাজ নেন তিনি। চলতি বছরের রমজানে তাকে একটি মাফিয়া চক্র অপহরণ করে। পরে নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
আসাদুলের স্ত্রী নিপা বেগম বলেন, পরিবারের অসহায়ত্বের চিত্র মোবাইলে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখানো এবং অনেক অনুরোধের পর তারা ৬ লাখ টাকায় রাজি হয়। সুদে ৫ লাখ টাকা ঋণ করে আর বাবার বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা এনে তিন দফায় মুক্তিপণের টাকা দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর মাফিয়ারা গত ২০ মে রাতে চোখ বেঁধে রাস্তায় ফেলে যায় আসাদুলকে। লিবিয়ায় সুমন নামের এক প্রবাসী তাকে দেখে চিনতে পেরে তার বাসায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং আশ্রয় দেয়। সেখানে আশ্রয় পেলেও অর্থের অভাবে গত দুই মাস ধরে চিকিৎসা হচ্ছে না। দেশে ফিরতে প্রয়োজন দেড় লাখ টাকা, সেটিও জোগাড় করতে না পারায় তিনি এখনো লিবিয়ায় আটকে আছেন।
নিপা বেগম বলেন, স্বামীকে মুক্ত করতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন দেশে ফিরিয়ে আনার টাকাও নেই। দুই সন্তান ও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি। স্বামীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
