৭৫ মিনিটের পর ১১ গোল, ক্যারিশমাটিক কামব্যাকের মহাকাব্য লিখছে আর্জেন্টিনা

অনলাইন ডেস্ক

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে রেফারি যখন শেষ বাঁশিটা বাজালেন, তখন মাঠজুড়ে শুধুই আলবিসেলেস্তেদের নীল-সাদা গর্জন! ফুটবল ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে গেল নতুন এক মহাকাব্য। যে ম্যাচে ৫৫ মিনিটে ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা আর্জেন্টিনা শিবির, সেখান থেকেই রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়াল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

কী চরম নাটকীয়তা! ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা, ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে এগিয়ে চলছে শেষের দিকে। ইংলিশ ডিফেন্স যেন ভাঙার কোনো উপায়ই ছিল না। কিন্তু থমাস টুখেলের অতি-রক্ষণাত্মক কৌশলই শেষ পর্যন্ত কাল হলো ইংল্যান্ডের জন্য। রক্ষণভাগে গুটিয়ে থাকা ইংল্যান্ডকে পেয়ে বক্সের বাইরে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন স্বয়ং ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসি। আর তাতেই খুলে যায় জাদুর বাক্স! ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের সেই চোখধাঁধানো বুলেট গতির শট; গোল! সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা!

কিন্তু নাটকের শেষ অঙ্ক তো তখনো বাকি! যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিট, স্টেডিয়ামজুড়ে তখন শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা। ঠিক তখনই মেসির সেই জাদুকরি মুহূর্ত! নিজের দুর্বল ডান পা দিয়ে দূর পোস্টে এমন এক নিখুঁত ক্রস বাড়ালেন, যেখানে চিতার বেগে ছুটে এসে হেড করলেন লাওতারো মার্তিনেজ! বল জালে জড়াতেই উল্লাসের সুনামি আছড়ে পড়ল আটলান্টায়। ২-১ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল কোপা আমেরিকা জয়ীরা।

চলতি বিশ্বকাপে ৭৫ মিনিটের পর এটি আর্জেন্টিনার ১১ নম্বর গোল! ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাল না ছাড়া; এটাই যেন এখন আর্জেন্টিনার ‘সিগনেচার মার্ক’। ফাইনাল নিশ্চিত হতেই সতীর্থরা কাঁধে তুলে নিলেন জাদুকর লিওনেল মেসিকে। ওদিকে হ্যারি কেইনদের চোখে তখন শুধুই বিষাদের জল, অতিরক্ষণাত্মক কৌশলের খেসারত দিয়ে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিল থ্রি-লায়ন্সরা। ফুটবলবিশ্ব এবার সাক্ষী হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক ফাইনালের, যেখানে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দুই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন; স্পেন ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights