‘বিতর্ক’ পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের উল্লাসেই বিপদ!

অনলাইন ডেস্ক
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনাল শেষে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির সমর্থনে একটি ব্যানার প্রদর্শন করায় দলটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।

শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা স্প্যানিশ ভাষায় লেখা একটি ব্যানার হাতে নিয়ে উদযাপন করেন। ব্যানারটির অর্থ ছিল—‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’।

দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য নিহত হন। এছাড়া প্রাণ হারান দ্বীপটির তিন বাসিন্দাও।

এর আগে ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। তখন সংস্থাটি জানিয়েছিল, ওই পদক্ষেপ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলের অসদাচরণসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করেছে।

সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিসারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না।’ ওই পোস্টের সঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার সেনাদের একটি ভিডিওও যুক্ত করেন। পৃথক আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার। এগুলো স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা ভুলে গেছে—আমরা এগুলো আমাদের রক্তে ও হৃদয়ে বহন করি।’

ম্যাচের আগেও ভিসারুয়েল মন্তব্য করেছিলেন, এই সেমিফাইনাল ছিল ‘আগ্রাসনকারীদের তাদের জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার’ একটি সুযোগ।

এর আগে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ডস, দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসিকে উল্লেখ করে জয়ধ্বনি দিয়েছিলেন।

তবে সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি ফুটবল ও রাজনীতিকে একসঙ্গে দেখতে চান না।

স্কালোনির ভাষায়, ‘এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি দুঃখজনক ইতিহাসের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ফুটবল ও রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলানো উচিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ হয়েছে এবং আমরা সব যুদ্ধেরই সমালোচনা করি। কিন্তু এই ম্যাচকে সেই প্রসঙ্গের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।’

ঐতিহাসিক বৈরিতার কারণে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল বাড়তি। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights