আইসিসিবিতে শুরু হলো বি-বিউটি টেক এক্সপো

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশিবিদেশি প্রসাধনী, ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও সৌন্দর্য প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বি-বিউটি টেক এক্সপো-২০২৬। গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) রাজদর্শন হলে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। দেশের এ খাতকে আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজার ও বিনিয়োগের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ওয়েম বাংলাদেশ লিমিটেড জানিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। এবারের আয়োজনে ৬০টির বেশি প্রদর্শক, ১০০টির বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং ৮টির বেশি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। চীন, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর বলেন, দেশের প্রসাধনী শিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে পরিণত হতে পারে। ওয়েম বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, বর্তমানে দেশের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা খাতের বাজারের আকার প্রায় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরগুলোতে এ বাজারে বছরে ৬ থেকে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। হারমনি স্পার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা রিতা বলেন, এ সংশ্লিষ্ট খাতে বর্তমানে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে আরও পাঁচ থেকে আট লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুটলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে উদ্যোক্তাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। এসব বাধা কমানো গেলে দেশীয় ব্র্যান্ড আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। গ্লোবাল ভিলেজ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হোসেন বলেন, অনেক ভোক্তার মধ্যে এখনো দেশীয় পণ্যের মান নিয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। এ মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা বাড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি প্রচারণা চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।

আয়োজকদের মতে, বি-বিউটি টেক এক্সপো-২০২৬ শুধু পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; বরং এটি দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে এ খাতের আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও তুলে ধরবে প্রদর্শনীটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights