ফাইনালের আগে ভাইরাল অদ্ভুত সব হিসাব, আর্জেন্টিনার পক্ষে ৫ সংকেত!

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই আবেগ, পরিসংখ্যান আর কাকতালীয় নানা গল্প। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এমনই পাঁচটি অদ্ভুত মিল, যেগুলোকে অনেকেই আলবিসেলেস্তেদের পক্ষে শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

প্রতিটি বিশ্বকাপই কিছু অন্ধবিশ্বাস, রোমাঞ্চকর পরিসংখ্যান এবং অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনার জন্ম দেয়। ফাইনালের আগে সেই আলোচনা আরও তীব্র হয়। কিছু ঘটনার ঐতিহাসিক ভিত্তি থাকলেও, কিছু আবার নিছক কাকতাল। তবুও চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে এগুলো নতুন করে আশার সঞ্চার করছে।

১. ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের মতোই ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানো

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ সেই ম্যাচকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। ওই জয় শেষে বিশ্বকাপও জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ঠিক ৪০ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এবার অবশ্য সেমিফাইনালে। একই স্কোরলাইনকে অনেক সমর্থকই নতুন শিরোপার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

২. কোয়ার্টার ফাইনালের ৩-১ সমীকরণ

বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে জয় এসেছে মাত্র তিনবার। ১৯৩৮: ইতালি ৩-১ ফ্রান্স, ১৯৬২: ব্রাজিল ৩-১ ইংল্যান্ড আর ২০২৬: আর্জেন্টিনা ৩-১ সুইজারল্যান্ড আরও মজার বিষয় হলো- তিনবারই জয়ী দল ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রথমে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, পরে সমতায় ফেরে প্রতিপক্ষ, এরপর শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। ইতালি ও ব্রাজিল- দুই দলই সেই বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে।

৩. জার্সি নম্বরের রহস্য

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি একসঙ্গে মাঠে নামান ১৯ নম্বর জার্সিধারী নিকোলাস ওতামেন্দি, ৭ নম্বর জার্সির রদ্রিগো ডি পল এবং ৪ নম্বর জার্সির গঞ্জালো মন্টিয়েলকে। এই তিন জার্সি নম্বর নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। সমর্থকদের মতে- ১৯ = ফাইনালের তারিখ (১৯ জুলাই), ৭ = জুলাই মাস, ৪ = আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা। এমনকি ম্যাচ শুরুর সময় নিয়েও অনেকে কাকতালীয় মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

৪. গোলের সংখ্যাতেও ‘১৯/৭’

এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা করেছে মোট ১৯টি গোল, আর হজম করেছে ৭টি। অনেক সমর্থকের দাবি, গোলের এই পরিসংখ্যানও যেন ফাইনালের তারিখ ১৯/৭ (১৯ জুলাই)-এর প্রতিফলন।

৫. স্কালোনির ১০৪তম ম্যাচ, বিশ্বকাপেরও ১০৪তম

স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালটি হতে যাচ্ছে লিওনেল স্কালোনির কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনার ডাগআউটে ১০৪তম ম্যাচ। অদ্ভুতভাবে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালটিও টুর্নামেন্টের ১০৪তম ম্যাচ। এই সংখ্যাগত মিলও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এসব কাকতালীয় ঘটনা সত্যিই আর্জেন্টিনার পক্ষে ইতিহাস লেখে, নাকি স্পেনই গড়ে নতুন এক অধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights