‘এত ক্যাচ ড্রপ করলে সিরিজ আপনি ডিজার্ভ করেন না’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতে নিল ২-১ ব্যবধানে। অন্যদিকে একের পর এক ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়ে প্রায় জেতা সিরিজটা হেরেছে জিম্বাবুয়ে।
ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে এদিন ১৪৩ রানেই থামিয়েছে বাংলাদেশ। বোলার-ফিল্ডারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে দেড়শর আগে থামাতে সক্ষম হয় টাইগাররা। জবাব দিতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জেতার পথেই ছিল বাংলাদেশ। দারুণ এক ফিফটি হাঁকান তানজিদ। শেষ ওভারে টানা বেশ কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল। তবে শেখ মেহেদী হাসানের চারে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে টাইগাররা। পেয়েছে ৪ উইকেটের দারুণ এক জয়। ম্যাচের সাথে জিতে নিয়েছে সিরিজও।
দ্বিতীয় ম্যাচে প্রায় ৭-৮টি ক্যাচ ছেড়েছিল জিম্বাবুয়ে, যেখানে এক সাইফ হাসানের ক্যাচই ছেড়েছিল ৫টি। সাইফ পরে ফিফটিও করেন। ম্যাচও হারে জিম্বাবুয়ে। সিরিজ শেষে ফিল্ডিং নিয়েই বেশি আফসোস শোনা গেল জিম্বাবুয়ের প্রধান কোচ জাস্টিন স্যামন্সের কণ্ঠে।
সংবাদ সম্মেলনে স্যামন্স বলেছেন, ‘শুরুতে তো ফিল্ডিংয়ের কথা বলতে হবে। এত এত ক্যাচ ড্রপ। সিরিজজুড়ে যদি আপনি এত ক্যাচ ড্রপ করেন তাহলে আসলে সিরিজ জেতাটা আপনি ডিজার্ভ করেন না। এটাই আসল কথা। সুযোগ পেলে সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। বোলাররা দুর্দান্ত খেলেছে সিরিজজুড়ে। তারা অনেক সুযোগ সৃষ্টি করেই গিয়েছে। তাদের দোষ নেই। ফিল্ডিংয়ে আমাদের আরও ভালো হতে হবে। ব্যাটিংয়ে আমাদের সেই আগুনটা ছিল না। ডিয়ন আজ ভালো করেছে। বেনেট সেদিন ভালো করল। তবে ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো করতে পারিনি। যেদিন ১৭০ রান করলাম, সেদিনও আরও রান করার সুযোগ ছিল। আজকেও পারের চেয়ে কম রান করেছি। ১৬০ রান করা দরকার ছিল অন্তত। বোলিংয়ে বিশ্বাস ছিল ডিফেন্ড করতে পারব হয়ত। তবে শেষ ৫ ওভারে ৩৪ রান নিয়েছি। ফিনিশিংয়ে আরও ভালো করতে হবে আমাদের।’
এছাড়া ফর্ম নিয়ে ধুঁকতে থাকা মিল্টন শুম্বাকে নিয়ে স্যামন্স বলেছেন, ‘আমরা তার উপর আস্থা রাখি দেখেই এই ম্যাচে খেলেছি। বিশ্বাস আছে তার উপর। কঠিন ম্যাচ। ভুল তো হবেই। তবে সে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা তাকে বিশ্বাস করছি। তাই খেলিয়ে যাচ্ছি।’
এছাড়া জিম্বাবুয়ের প্রধান কোচ বলেছেন, ‘যে কেউ চাইলে দায়িত্ব নিতে পারে। লড়াই করে খেলতে হবে। আমি এটাই দেখতে চাই। আমি চাই না কেউ দায়িত্ব এড়িয়ে যাক। বিশ্বাস নিয়ে দায়িত্ব নিতে হবে। যেকোনো বলেই লড়াই করতে হবে। ১১ জনকেই লড়াই করে যেতে হবে।’
ম্যাচে হারের ব্যাপারে স্যামন্স আরও বলেছেন, ‘খুবই ফ্রাস্ট্রেটিং। এই ম্যাচ অবশ্যই জেতা দরকার ছিল। নিজেদেরকেই দোষ দিতে হবে। আগের ম্যাচে ৮টি ক্যাচ মিস করেছি। ৮ ক্যাচ নিলে খেলা আগেই শেষ হয়ে যেত। আজকেও হারা উচিত হয়নি। জিম্বাবুয়েতে এসব ব্যাপার (গ্রাউন্ড, কন্ডিশন) সামলেই এগোতে হবে। কোনো অজুহাত নেই। গ্রাউন্ড কঠিন হলেও পথ খুঁজে বের করতে হবে। সেরাটা দিতে না পারলেও কোনো না কোনো উপায় বের করতে হবেই।’
টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে বাংলাদেশ জিতলেও একই ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। এর আগে একমাত্র টেস্টে জিতেছিল জিম্বাবুয়ে।
