জিয়াউল আহসানের বাসায় দুদকের অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জলসিঁড়ির ৮ তলা বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটের জয়িতা নামের ৮ তলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মালপত্র জব্দসহ তালিকা প্রস্তুত করে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জলসিঁড়িতে অবস্থিত ৮ তলা ভবনটি আদালতের আদেশে ক্রোক করা সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। সেই আদেশ অনুযায়ী ভবনের বিভিন্ন কক্ষে থাকা আসবাব, যন্ত্রপাতি ও অন্য সামগ্রীর তালিকা করা হচ্ছে। ক্রোক করা সম্পদের সঠিক বিবরণ সংরক্ষণের জন্য এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তারা।

এর আগে, এ বছরের ২১ জানুয়ারি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে থাকা জয়িতা নামের ৮ তলা বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করে প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ এ সিলগালা করেন।

এর আগে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করা এবং তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করার অভিযোগে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া, গাইডলাইন অব ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের সার্কুলার অনুযায়ী অনুমোদিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া, জিয়াউল আহসান নিজ নামে থাকা ৮টি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। তিনি তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী নুসরাত জাহানের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জিয়াউল আহসান দুদক আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।

উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এছাড়া, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিউ মার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights