বিপদে সহযোগিতার মানসিকতা ভবিষ্যতে সাহস জোগাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সামলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা যে সাহস দেখিয়েছেন, তা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার। নিজের জীবনের চেয়ে অন্যের জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষকে বাঁচানোর যে চেষ্টা সেদিন দেখা গেছে, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা ভবিষ্যতের সব সংকট মোকাবিলায় সাহস জোগাবে।’ গতকাল রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির অভিজ্ঞতা অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহযোগিতার মানসিকতা আরও দৃঢ় করবে। সেদিন যাঁরা মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা প্রমাণ করেছেন মানুষের জন্য মানুষ।’
বার্ন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দি অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি, চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হালিম ডোনার প্রমুখ।
ট্র্যাজেডিঅনুষ্ঠানে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক-কর্মচারী এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিক্ষার্থীদের নাম, ছবি দিয়ে তৈরি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন জুবাইদা রহমান। এ ছাড়া মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় দায়িত্ব পালন করা বিভিন্ন সহযোগী দেশের রাষ্ট্রদূত ও চিকিৎসকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন তিনি।
গত বছরের ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ৩৫ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মী ও যুদ্ধবিমানের পাইলট নিহত হন। দুর্ঘটনায় দগ্ধদের বার্ন ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
নানান আয়োজনে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির নিহতদের স্মরণ : হৃদয়সিক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি, শোক প্রকাশ আর বেদনামথিত স্মৃতিচারণার মাধ্যমে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে শহীদদের স্মরণ করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। গতকাল দুই পর্বে পালিত হয় দিনের কর্মসূচি। সকালে দুর্ঘটনাস্থল দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনের সামনে স্থাপিত বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে সশ্রদ্ধ সালাম জানানো হয়। এ সময় শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় ১ মিনিটের নীরবতা এবং আয়োজন করা হয় দোয়া ও মোনাজাতের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরন নবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, কলেজের উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম এবং মাইলস্টোন প্রিপারেটরি কেজি স্কুলের নির্বাহী অধ্যক্ষ মিসেস রিফাত নবী আলমসহ অন্যরা।
বিকালে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে মাইলস্টোন কলেজের সেমিনার হলে আলোচনা সভা, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের স্মৃতিচারণা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামান এবং মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল নুরন নবী (অব.)। অনুষ্ঠানে বিমান দুর্ঘটনার দুঃসহ দিনের কথা মনে করে স্মৃতিচারণা করেন নিহত শিক্ষিকা মেহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল, নিহত শিক্ষার্থী তাসনিয়া হকের বাবা নাজমুল হক, আহত শিক্ষার্থী জাইয়ানা মাহবুবের মা সানজিদা বেলায়েত এবং আহত শিক্ষার্থী নাভিদ নাওয়াজ দীপ্তর বাবা মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি স্কুল শাখার হায়দার আলী একাডেমিক ভবনে আঘাত হানে। এতে পাইলটসহ মোট ৩৭ জন নিহত হন।
