দিনাজপুরে ভেসে যাওয়া বাঁশের সাঁকো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ
দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের দুই উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর উপর কোনো সেতু না থাকায় নলশীষা নদীর দুইপাড়ের কয়েক গ্রামের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বাশেঁর সাকো দিয়ে দিনের পর দিন ঝুঁকিতে চলাচল করতে হচ্ছে। আশেপাশের গ্রামের উৎপাদিত পণ্য মাথায় নিয়ে পারাপার হয় অনেককেই।
কিন্তু বিরামপুরের খানপুর ইউপির দিঘলচাঁদ গ্রামের লালঘাট-আশুড়ার বিলের ওপর নির্মিত প্রায় ২১০ ফুট দীর্ঘ এই বাঁশের সাঁকোটি সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ায় আশেপাশের ১৩টি গ্রামের মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ।
বিষয়টি নজরে এলে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন। তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন, যাতে এলাকাবাসীর পারাপারে দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।
এখন ইউএনওর তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন পাহান-এর তত্ত্বাবধানে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশের সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অথচ বর্ষার এ সময় বাঁ সাকো না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ। তখন পণ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ২০ মাইল ঘুরে নবাবগঞ্জ হয়ে বিরামপুর যেতে হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সাঁকোটি চালু হলে ধানজুড়ি মিশন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের ১৩টি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। তবে এখানে স্থায়ীভাবে একটি সেতু নির্মাণ করলে বারবার এই সমস্যার সৃষ্টি হতো না বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘব করাই আমাদের অগ্রাধিকার। মানুষের চলাচলে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
