ছয় সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হোরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধের ইরানি ঘোষণা এবং লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের পর এশিয়ান বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২.৩ শতাংশ বা ২.২ ডলার বেড়ে ৯৬.২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ৮৮.৪৮ ডলারে। এর আগের দিনও লেনদেনের শেষভাগে উভয় ধরনের তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানায়, হোরমুজ প্রণালির দক্ষিণে তাদের পেতে রাখা মাইন এড়াতে গিয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। একই সময়ে আরও দুটি বড় ট্যাংকার দিক পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হোরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং লোহিত সাগরে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তেলবাহী জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশ বা বের হতে পারবে না।

একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে নতুন ফ্রন্ট খুলেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। তারা সৌদি আরবের তেল সরবরাহকারী জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে ‘এনসেলিয়া’ নামের একটি সৌদি পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকারে সামরিক অভিযান চালিয়ে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে হুথিরা। একই সঙ্গে হুথিদের সতর্কবার্তার মুখে প্রায় ১০টি জাহাজ যাত্রা বাতিল করে ফিরে গেছে বলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে।

বিশ্বখ্যাত জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হোরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুটি জ্বালানি পরিবহন পথের একই সময়ে অচল হয়ে পড়া একটি বিরল ও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এতে করে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা এশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে তীব্র চাপের মুখে ফেলবে।

পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করে তুলে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর টানা ১২তম রাতের মতো বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হোরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজে আক্রমণ করা হলে তার জবাবে ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এতে করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহৎ পরিসরের জ্বালানি যুদ্ধের কালো ছায়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights