‘পুরো দিল্লি বন্ধ করতে রাজি, তবু শিক্ষামন্ত্রীকে সরাচ্ছেন না মোদি’

অনলাইন ডেস্ক

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দিলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটসহ একাধিক জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, কারিগরি ত্রুটি এবং পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনলাইনে গড়ে ওঠা কাকরোচ জনতা পার্টি সিজেপি নামে একটি প্ল্যাটফর্ম আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। দিল্লির যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় হাজারো শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। যে আন্দোলন এখন ছড়িয়ে গেছে ভারতজুড়ে।

গত সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে। এ ঘটনার সমালোচনা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৬ দিন ধরে অনশন করা পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনাম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে তিনি পানি পান করে অনশন শেষ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার জানিয়েছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না। পাশাপাশি আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং সিজেপির দুই ছাত্রনেতার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে।

তবে মোদীর এই ঘোষণাকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে সিজেপি। সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, এটি মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা। আর সিজেপির সভাপতি অভিজিৎ দিপকে দাবি করেন, সরকার পুরো দিল্লি বন্ধ রাখতে রাজি, কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে রাজি নয়।

ছাত্রনেতাদের দাবি, সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, কোনো ধরনের অহমিকা নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান চায় তারা।

সোর্সঃ আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights