সৌদিকে কি ট্রাম্পের চেয়ে ভালো পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব দিতে পারে চীন?

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করায় মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, এই অবস্থান চীন ও পাকিস্তানের জন্য নতুন কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

পাকিস্তানের সাবেক ফ্রন্টিয়ার কর্পসের কমান্ডার ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খান মনে করেন, ট্রাম্পের এই শর্তাধীন প্রস্তাব বেইজিংকে সৌদি আরবের কাছে বিকল্প একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। একই ধরনের প্রস্তাব ইরানকেও দেওয়া হলে তা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারিক খান বলেন, ট্রাম্প হঠাৎ করেই সৌদি আরবের জন্য পারমাণবিক চুক্তিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত করায় চীন এখন কোনও রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই সৌদি আরব এবং ইরান- উভয়ের কাছেই বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে পারে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করতে পারে।

তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাবের পরিবর্তে চীনের নিঃশর্ত পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতার প্রস্তাব এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই ধরনের প্রস্তাব যদি ইরানকেও দেওয়া হয়, তাহলে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য কমানোর ক্ষেত্রেও তা সহায়ক হতে পারে।”

তবে পাকিস্তানের সামনে কঠিন কূটনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তারিক খান। তিনি বলেন, ইসলামাবাদকে শেষ পর্যন্ত হয় ইরান ও চীনের পক্ষ নিতে হবে, নয়তো সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

তার মতে, “যে পক্ষই বেছে নেওয়া হোক না কেন, অন্য পক্ষের সমর্থন বা আস্থা হারানোর ঝুঁকি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।”

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে তারিক খানের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন যদি পারমাণবিক সহযোগিতাকে রাজনৈতিক শর্তের সঙ্গে বেঁধে রাখে, তাহলে বেইজিং সেই শূন্যস্থান কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এমন কোনও উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কৌশলগত স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights