পরপর দুই জরিপে এগিয়ে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দৌড়ে শীর্ষে লুলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত নতুন এক জনমত জরিপে বিরোধীদলীয় সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ব্রাজিলের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডাটাফোলহা’ কর্তৃক শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের (রান-অফ) নির্বাচনে লুলার ঝুলিতে ৪৮ শতাংশ ভোট পড়তে পারে, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পাবেন ৪৩ শতাংশ ভোট। এর আগে গত জুন মাসে পরিচালিত জরিপে লুলার পক্ষে ৪৭ শতাংশ এবং ফ্লাভিওর পক্ষে ৪৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখা গিয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে নির্বাচনী লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্রাজিলের বিদ্যমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম ধাপের নির্বাচনে যদি কোনো প্রার্থী মোট বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেতে ব্যর্থ হন, তবে সর্বাধিক ভোট পাওয়া শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের রান-অফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডাটাফোলহার প্রথম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট লুলা ৪০ শতাংশ সমর্থন পেয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ৩২ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রোনালদো কায়াদো ৪ শতাংশ এবং রোমেউ জেমা ও রেনান সান্তোস উভয়ই ৩ শতাংশ করে ভোট পেতে পারেন বলে জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে।

বিরোধী শিবিরের জন্য এই পিছিয়ে পড়ার ঘটনাটি এমন একসময়ে সামনে এলো, যখন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তার সৎমা তথা ব্রাজিলের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ পারিবারিক ও রাজনৈতিক কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। গত জুন মাসে মিশেল বলসোনারো সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, দলীয় নীতি ও কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে ফ্লাভিও তাকে ‘অশ্রদ্ধা’ করেছেন। যদিও বিতর্ক এড়াতে চলতি সপ্তাহেই সৎমার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন সিনেটর ফ্লাভিও। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ডানপন্থী ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্রাজিলের ওপর সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘটনার পরপরই এই জনমত জরিপটি পরিচালিত হয়। অসাধু বাণিজ্যের অভিযোগ এনে গত সপ্তাহে ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যদিও প্রেসিডেন্ট লুলার প্রশাসন আমেরিকার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সমস্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আবহে ডাটাফোলহা সংস্থাটি গত ২২ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রাজিলের ২,০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে। গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জনমত জরিপে ভুলের মাত্রা বা ‘মার্জিন অব এরর’ দুই শতাংশ (প্লাস বা মাইনাস) ধরা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights