হাইতির এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিস্ময়বালক ‘কিকি’ রামোস

অনলাইন ডেস্ক

হাইতির রাজধানী পোর্ত-অ-প্রিন্সের একটি এতিমখানায় শুরু হয়েছিল তার জীবনের গল্প। জন্মের পর থেকেই ছিল অনিশ্চয়তা, সংগ্রাম আর অজানা ভবিষ্যৎ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই শিশুই আজ আর্জেন্টিনার ফুটবলের নতুন আলো। তিনি স্টিফেন ‘কিকি’ রামোস- যাকে নিয়ে ইতোমধ্যেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকেরা।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন এই তরুণ। হাইতিতে জন্ম হলেও ছোটবেলায় একটি আর্জেন্টাইন পরিবার তাকে দত্তক নেয়। এরপর নতুন পরিবেশে বেড়ে ওঠা, স্প্যানিশ ভাষা শেখা এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই বদলে দেয় তার জীবন।

বর্তমানে দেশটির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ভেলেজ সার্সফিল্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলছেন কিকি। স্বাভাবিকভাবে বাম প্রান্তের আক্রমণভাগে খেললেও ডান দিকেও সমান স্বচ্ছন্দ তিনি। গতি, ড্রিবলিং, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের ওপর দ্রুত চাপ তৈরির দক্ষতায় বয়সভিত্তিক ফুটবলে ইতোমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন এই কিশোর।

চলতি মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। ভেলেজের যুব দলের হয়ে করেছেন ১২ গোল। এর মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। ধারাবাহিক নৈপুণ্যের পুরস্কার হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে প্রথমবারের মতো ডাক পান আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলে।

জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত রামোস জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনাই তার প্রকৃত বেড়ে ওঠার দেশ। এখানেই তিনি নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছেন। তাই একদিন ভেলেজের মূল দলে অভিষেক এবং আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নই তাকে প্রতিদিন আরও কঠোর পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করে।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দল বাম প্রান্তের আক্রমণভাগে একজন স্থায়ী খেলোয়াড়ের খোঁজ করছে। সেই জায়গায় ভবিষ্যতের বড় ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে কিকি রামোসকে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে ২০৩০ বিশ্বকাপে, মাত্র ২১ বছর বয়সেই, আর্জেন্টিনার মূল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দেখা যেতে পারে তাকে।

তবে কিকি রামোসের গল্প শুধুই ফুটবলের নয়। এটি প্রতিকূলতাকে হার মানানোর গল্প। একটি এতিমখানা থেকে শুরু করে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখার গল্প। হাইতিয়ান শিকড় নিয়ে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে তার পথচলা ভবিষ্যতে নতুন ইতিহাসও গড়তে পারে।

ফুটবল দুনিয়ায় প্রতিভার অভাব নেই। কিন্তু কিকি রামোসের গল্প মনে করিয়ে দেয় স্বপ্নের কোনো সীমান্ত নেই। কখনো কখনো একটি সুযোগই বদলে দিতে পারে পুরো জীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights