১৮০ দিনের উন্নয়ন কার্যক্রমের খতিয়ান প্রকাশ করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। প্রকাশিত খতিয়ানে বাস্তবায়িত ও চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় থেকে স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন বলেও তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রতিটি উন্নয়নকাজের অগ্রগতি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। জনগণের আস্থা, জবাবদিহি ও দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ভূমি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকেরা ঘরে বসেই ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি ফি জমা, খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ, আবেদন যাচাই এবং অভিযোগ দাখিলসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। পাশাপাশি ১৬১২২ কলসেন্টারের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

হাটহাজারী পৌরসভায় সেবার মান উন্নয়নে ব্যাংক বুথ স্থাপন, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাটহাজারীতে ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় ইউনিয়নগুলো এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

গত ১৮০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণ, আরসিসি ঢালাই, পাকা ড্রেন নির্মাণ, সংযোগ সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ ক্যাম্পাসের নিপবন শিশু বিদ্যালয় থেকে জামতল সড়ক এবং শিকারপুর ইউনিয়নের গুলগুল আমগাছতলা সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বিলে সেচ প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া মেখল এলাকার হারিয়াননালা খাল, সুন্দরী ছড়া ও ভাঞ্জন খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও নালা পরিষ্কার, ফতেয়াবাদ-রামদাশহাট-মদুনাঘাট সড়ক মেরামত এবং একাধিক সেতু ও কালভার্ট নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে বলে খতিয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সরকারি খাসজমির আনুমানিক ৪ কোটি টাকা মূল্যের একাধিক সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তা বিতরণের পাশাপাশি শারীরিক প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার ও সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া বুড়িশ্চর, ধলই, চিকনদণ্ডী, দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ঢালাই, হালদা নদীর তীর সংরক্ষণ, আব্বাছিয়ারপুল সেতু নির্মাণ এবং খাল পুনঃখননসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights