ভয়াবহ দাবানলের পর জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মাখোঁ

অনলাইন ডেস্ক

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে এমানুয়েল মাখোঁ জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। দাবানালে দেশটির জিরোন্দ অঞ্চলে প্যারিস শহরের আয়তনের চার গুণ এলাকা পুড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গত রাত থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগের দিনগুলোর তুলনায় ভিন্ন একটি চিত্র। কারণ গত সপ্তাহ থেকে জ্বলতে থাকা এই বিশাল দাবানলটি ক্রমশ বোর্দো শহরের যা ওয়াইন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত কাছাকাছি চলে এসেছিল।

নতুন করে আর কাউকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে আগস্ট মাসে পর্যটকদের ভিড় বাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে জিরোন্দ কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের ওই এলাকা থেকে দূরে রাখতে বাড়তি পদক্ষেপ নিয়েছে; এর অংশ হিসেবে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত হলিডে ক্যাম্প বা অবকাশকালীন শিবির নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্থল ও আকাশপথে বিশেষ করে পানি ও আগুন নেভানোর রাসায়নিক পদার্থ ছিটানো বিমানের সহায়তায় বিশাল পরিসরে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। দমকলকর্মীরা সময়ের বিরুদ্ধে এক কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন; কারণ আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

মাখোঁর সভাপতিত্বে সোমবার(২৭ জুলাই) সকালে সরকারের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এক্সে দেওয়া পোস্ট এক বার্তায় তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করব এবং যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন আমরা তাদের পাশে থাকব।

এদিকে স্পেনে মাদ্রিদের আশপাশের এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এছাড়া রবিবার ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলেও আগুন থেকে বাঁচতে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। সরকারের তথ্যমতে, স্পেনে মোট ৭৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩০ হাজার মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া লোকজন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। বাড়ি ফেরার অনুমতি পেলে তারা সেখানে কী পরিস্থিতি দেখতে পাবেন, তা নিয়ে। মাদ্রিদের পশ্চিমে অবস্থিত চ্যাপিনেরিয়া থেকে নিজের কুকুর ‘সিম্বা’কে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসা রোসিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, দৃশ্যটা ছিল যেন কেয়ামতের মতো। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। সবকিছু ছাইয়ে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, শহরে ফিরে আমরা কী দেখব, তা জানি না বাড়ির অর্ধেকটা হয়তো পুড়ে গেছে, কিংবা হয়তো বাড়িটা অক্ষত আছে, অথবা হয়তো বাড়িটাই আর নেই। সব কাপড়চোপড়, সব স্মৃতি সবকিছুই তো সেখানে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights